সিলেটের সাংবাদিকতা অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, প্রাজ্ঞ ও সাহসী সাংবাদিক, সিলেট প্রেসক্লাবের সম্মানিত সভাপতি এবং দৈনিক জালালাবাদ-এর সম্পাদক মুকতাবিস-উন-নূর-এর আজ ২০ জুন শুভ জন্মদিন।
সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে তিনি সপ্তম বারের মতো দায়িত্ব পালন করছেন—যা তাঁর অসাধারণ নেতৃত্বগুণ, গ্রহণযোগ্যতা, নৈতিক দৃঢ়তা এবং সাংবাদিক সমাজে অর্জিত অটল আস্থারই এক অনন্য স্বীকৃতি। সিলেটের সাংবাদিকতার ইতিহাসে তাঁর নাম উচ্চারিত হয় গভীর শ্রদ্ধা, গর্ব ও ভালোবাসার সঙ্গে। দীর্ঘ কর্মময় জীবনে তিনি শুধু একজন সম্পাদক বা সংগঠকই নন; বরং তিনি হয়ে উঠেছেন প্রজন্মের পর প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য এক অনুপ্রেরণার প্রতীক।
তাঁর সুদীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, নীতিনিষ্ঠ অবস্থান এবং পেশার প্রতি অবিচল নিষ্ঠা আজও আমাদের আলোকিত করে, সাহস জোগায় এবং পথ দেখায়।
সাংবাদিকতা শুধু খবর পৌঁছে দেওয়ার কাজ নয়—এটি সত্য ও ন্যায়ের প্রতি এক গভীর দায়বদ্ধতা, সমাজের কাছে জবাবদিহির একটি অবিচ্ছেদ্য প্রক্রিয়া। গণমাধ্যমের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি প্রতিবেদন সমাজে ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এই উপলব্ধি থেকেই জন্ম নেয় দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা।
সিলেটের সাংবাদিকতার ইতিহাস ঐতিহ্য, সংগ্রাম, ত্যাগ ও নৈতিকতার এক গৌরবময় সংমিশ্রণ। এই ধারার কেন্দ্রবিন্দু সিলেট প্রেসক্লাব, যেখানে সাংবাদিকরা যুগে যুগে প্রান্তিক মানুষের কথা তুলে ধরেছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন এবং গণমানুষের স্বার্থরক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
এই দীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় আজও উদ্ভাসিত এক সময়সচেতন, প্রজ্ঞাবান ও দায়িত্বশীল সাংবাদিক—মুকতাবিস-উন-নূর।
তিনি কেবল সংবাদ সংগ্রহ বা প্রকাশেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং সাংবাদিকতাকে দেখেছেন বৃহত্তর সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে। সংগঠক হিসেবে সহকর্মীদের পাশে থাকা, নৈতিক সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা এবং সম্পাদক হিসেবে সত্য, ভারসাম্য ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখাই তাঁর কাজের মূল ভিত্তি।
তাঁর সম্পাদনায় সংবাদপত্র পেয়েছে গভীরতা, ভাষার শুদ্ধতা এবং পাঠকের সঙ্গে এক নিবিড় সংযোগ। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের কাছে তিনি আজও এক নির্ভরতার নাম—কারণ তাঁর কাজে রয়েছে আন্তরিকতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বের প্রতি অটল নিষ্ঠা।
আশির দশকে সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় সিলেটের সাংবাদিকতার মান, মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা ছিল অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে। সে সময় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সিলেটে এলে শুধু আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ নয়; বরং দিকনির্দেশনা ও মতবিনিময়ের জন্য প্রেসক্লাবে গিয়ে মুকতাবিস-উন-নূরের সঙ্গে সাক্ষাৎকে গুরুত্ব দিতেন।
এটি কোনো ব্যক্তিগত প্রভাবের ফল নয়; বরং একজন সৎ, নীতিবান ও প্রজ্ঞাবান সাংবাদিক হিসেবে তাঁর অর্জিত মর্যাদার স্বীকৃতি। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় তিনি ছিলেন সবসময় আপসহীন। সে সময় প্রেসক্লাব কেবল আড্ডাস্থল নয়—বরং হয়ে উঠেছিল মুক্তচিন্তা, জনস্বার্থ ও পেশাগত নৈতিকতার এক শক্তিশালী কেন্দ্র।
মুকতাবিস-উন-নূর যেন একক ব্যক্তি নন—তিনি এক প্রবাহের নাম; সত্য, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার উজ্জ্বল প্রতীক। তাঁর নেতৃত্বে সিলেটের সাংবাদিক সমাজ যদি আরও ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিতভাবে এগিয়ে যায়, তবে একটি স্বাধীন, ন্যায়নিষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ গণমাধ্যম কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব।
আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর চিন্তা, দর্শন ও কর্মপ্রয়াস শুধু সিলেট নয়, বরং বাংলাদেশের সাংবাদিকতাকেও আরও সমৃদ্ধ করবে এবং পেশাটির মহত্ত্ব ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে আরও সুদৃঢ় করবে।
মুকতাবিস-উন-নূর শুধু একজন সাংবাদিকই নন, তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবীও। সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে তিনি সিলেটের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মানবিক দায়বোধ থেকে তিনি বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে আর্থিক ও নৈতিক সহায়তা প্রদান করেছেন, এবং বহু পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার মতো মহতী কাজেও অবদান রেখেছেন।
সমাজের অসহায় মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে তাঁর এই অবিরাম প্রয়াস তাঁকে কেবল একজন পেশাজীবী হিসেবে নয়, বরং মানবিকতা ও সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল প্রতীকে পরিণত করেছে। তাঁর এসব কর্মকাণ্ড সিলেটের সমাজজীবনে গভীর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং অসংখ্য মানুষের জীবনে এনেছে স্বস্তি ও আশার আলো।
এই শুভ জন্মদিনে দৈনিক সিলেটডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। আপনার জীবন হোক আরও সমুজ্জ্বল, কর্মময় এবং সফলতায় পরিপূর্ণ।