গত ৮ মার্চ ভোর আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বাপ্পি এরিকের মেয়ে ও মো. মাসুদ পারভেজের স্ত্রী ফাতেমা পারভেজ নিশি (২৯) শ্রীমঙ্গলে নিজ কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বটতলা বাজারে গাড়ির অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-ক-০৩-৯৪৯৪) এসে তাকে শ্রীমঙ্গল যাবেন কি না জানতে চায়। তিনি যেতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়িটি বারবার সামনে-পেছনে ঘোরাফেরা করতে থাকে।
একপর্যায়ে তিনি বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করলে গাড়িটি তাকে অনুসরণ করে তার বাড়ির রাস্তায় ঢুকে পড়ে। পরে গাড়ির ভেতরে থাকা একজন নেমে তার মুখ চেপে ধরে টেনে নিয়ে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে। তবে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই নারী তাদের হাত থেকে ছুটে পালিয়ে নিরাপদে চলে যেতে সক্ষম হন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে কমলগঞ্জ থানায় মামলা (নং–০৭, জিআর–১৯/২৬) দায়ের করা হয়। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৭/৩০ ধারায় রুজু করা হয়েছে।
ঘটনার পর মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, পিপিএম এবং শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজুর নির্দেশনায় কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একাধিক টিম তদন্ত শুরু করে। পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিঠু রায়, এসআই আমির উদ্দিন, এসআই রনি তালুকদার এবং এএসআই হামিদুর রহমানসহ পুলিশের কয়েকটি দল সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে।
১০ মার্চ সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
আটককৃতরা হলেন কুলাউড়া উপজেলার শ্রীপুর (নাছিরাবাদ) গ্রামের মতছির আলীর ছেলে মো. জাকির মিয়া (২৬), মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সৈয়ারপুর এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে মো. কাওছার আহমদ (৩৪) এবং সদর উপজেলার গুলবাগ (বেরিরচর) এলাকার নুর মিয়ার ছেলে জসিম মিয়া (৩৬)। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট মহানগরীর সোবহানীঘাট এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত সাদা রঙের প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সদস্য। রমজান মাসে ভোরের ফাঁকা রাস্তায় ওই নারীকে একা পেয়ে তারা অপহরণের মাধ্যমে ধর্ষণের পরিকল্পনা করেছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
