কোন লক্ষণ দেখলে মেয়েশিশুর নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক হতে হবে?

মেয়েশিশুরা সব সময় অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা বা খারাপ স্পর্শের কথা সরাসরি বলতে পারে না। ভয়, লজ্জা বা বিভ্রান্তির কারণে অনেক শিশু চুপ হয়ে যায়। তাই অভিভাবকদের উচিত শিশুর আচরণ, মানসিক অবস্থা ও দৈনন্দিন অভ্যাসের পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু লক্ষণ আগেভাগেই বুঝতে পারলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।

হঠাৎ চুপচাপ বা ভয় পেয়ে যাওয়া

আগে স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যাওয়া, একা থাকতে চাওয়া, অকারণে ভয় পাওয়া বা বারবার আঁতকে ওঠা সতর্ক হওয়ার মতো বিষয়। অনেক সময় শিশুরা নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করলে আচরণে এমন পরিবর্তন আসে।

এক মেয়ের ওপর পুরুষের নির্যাতনের ফলে সৃষ্টি হওয়া ভয়, যন্ত্রণা ও মানসিক কষ্টকে তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতীকী ছবিতে

নির্দিষ্ট কারও কাছে যেতে না চাওয়া

কোনো আত্মীয়, পরিচিত ব্যক্তি, শিক্ষক বা প্রতিবেশীর কাছে যেতে না চাইলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। সেই ব্যক্তির নাম শুনলেই যদি শিশু অস্বস্তি বোধ করে বা কান্না করে, তবে তা খারাপ অভিজ্ঞতার ইঙ্গিত হতে পারে।

শরীরে অস্বাভাবিক দাগ বা ব্যথার অভিযোগ

শিশু যদি শরীরের কোনো অংশে ব্যথা, জ্বালা বা অস্বস্তির কথা বলে, কিংবা শরীরে অজানা দাগ দেখা যায়, তাহলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ঘুম ও খাওয়ার অভ্যাস বদলে যাওয়া

হঠাৎ দুঃস্বপ্ন দেখা, রাতে ঘুম ভেঙে কান্না করা, বিছানা ভিজিয়ে ফেলা বা খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া—এসবও মানসিক চাপে থাকার লক্ষণ হতে পারে।

নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে শিশুদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয়টি ‘নতুন কিছু না’

বয়সের তুলনায় অস্বাভাবিক আচরণ

শিশু যদি বয়সের তুলনায় যৌনতা বা শরীর নিয়ে অস্বাভাবিক কথা বলে, অদ্ভুত আচরণ করে বা খেলার মধ্যে বারবার এসব বিষয় আনে, তাহলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

একা থাকতে ভয় পাওয়া

অনেক শিশু খারাপ অভিজ্ঞতার পর একা ঘুমাতে বা আলাদা ঘরে থাকতে ভয় পায়। মা-বাবার কাছ থেকে দূরে গেলেই অস্থির হয়ে ওঠাও নিরাপত্তাহীনতার লক্ষণ হতে পারে।

শিশুদের নিরাপত্তায় অভিভাবকদের দিক থেকে সচেতনতা এবং নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন

কী করবেন অভিভাবকরা?

শিশুর সঙ্গে সব সময় বন্ধুত্বপূর্ণ ও বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি, যাতে সে যেকোনো অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা নির্ভয়ে বলতে পারে। ছোটবেলা থেকেই বয়স উপযোগী ভাষায় শিশুকে ‘ভালো স্পর্শ’ ও ‘খারাপ স্পর্শ’ সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। শিশুর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং কোনো পরিস্থিতিতেই তাকে দোষারোপ করা যাবে না। ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে না রেখে তাকে মানসিকভাবে নিরাপদ অনুভব করানো গুরুত্বপূর্ণ। কোনো আচরণ বা ঘটনার বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হলে দেরি না করে কাউন্সেলর, চিকিৎসক বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন