পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলা সফলতার পাশাপাশি ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ততার নানা বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। কোরআনের দৃষ্টিতে দুনিয়ার ধন-সম্পদ, ক্ষমতা বা সামাজিক সম্মান হারিয়ে ফেলা ব্যক্তি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত নয়। বরং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত সে-ই, যে ইমান হারিয়েছে, আল্লাহর সঙ্গে শিরকে লিপ্ত হয়েছে এবং পরকালের জবাবদিহিকে অস্বীকার করেছে।
পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন সুরার আলোকেই যাদের চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের পরিচয় নিচে তুলে ধরা হলো—
প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী
আল্লাহর দেওয়া বিধান ও সামাজিক অঙ্গীকার লঙ্ঘনকারীদের সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে, যে সম্পর্ক বজায় রাখতে আল্লাহ আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে; তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।’ (সুরা বাকারা: ২৭)
শিরককারী
তাওহিদের বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হয়ে শিরকে লিপ্ত হওয়াই মানবজাতির সবচেয়ে বড় অপরাধ। এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শরিক স্থির করে, সে তো এক চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়।’ (সুরা নিসা: ১১৬)
আল্লাহর নিদর্শন অস্বীকারকারী
আল্লাহর আয়াত ও তাঁর ক্ষমতাকে যারা অস্বীকার করে, তাদের পরিণতি বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘আর যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।’ (সুরা আরাফ: ৯)
পরকালে বিশ্বাসহীন ব্যক্তি
দুনিয়াই শেষ কথা নয়, শেষ বিচারের দিন ও স্রষ্টার মুখোমুখি হওয়াকে অস্বীকারকারীদের বিষয়ে কোরআনের স্পষ্ট বাণী, ‘নিশ্চয়ই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যারা আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ মিথ্যা মনে করেছে।’ (সুরা আনআম: ৩১)
পরিবারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া ব্যক্তি
নিজের ও নিজের পরিবারের পরকালীন সুরক্ষায় উদাসীন ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক করে মহান আল্লাহ বলেন, ‘জেনে রেখো, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত তো তারাই, যারা কিয়ামতের দিন নিজেদের এবং নিজেদের পরিবার-পরিজনকে ক্ষতির মধ্যে ফেলবে।’ (সুরা জুমার: ১৫)
সৎকর্ম ও সত্যের পথবিচ্যুত মানুষ
সুরা আসরে মানবজাতির সার্বিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করে মুক্তির পথ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ইরশাদ হয়েছে, ‘কালের শপথ! নিশ্চয়ই মানুষ চরম ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তবে তারা ছাড়া—যারা ইমান এনেছে, সৎকাজ করেছে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে ও ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।’ (সুরা আসর: ১-৩)
