কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলায় তরুণ নিহত, থানায় মামলা দায়ের

কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলায় আহত তরুণ আরিফ মিয়া (২০) দীর্ঘ প্রায় দশ মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন।

জানা যায়, সিলেটে বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ছাত্রলীগের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। গত ২৯ জুলাই ২০২৪ তারিখে জালালাবাদ থানার তেমুখী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জালালাবাদ থানার হাটখোলা গ্রামের মৃত মাখন মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া বাদী হয়ে ১৮/০৮/২০২৪ তারিখে জালালাবাদ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৪৩/১৪৮/১৪৯/৩২৩/৩০৭/ ৩২৬/১১৪/৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়। মামলা নং: জিআর-১০৮, থানার নং: ০৮।

মামলার আসামিরা হলেন—জালালাবাদ থানার হাটখোলা গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে নাহিদুল ইসলাম (৩০),
একই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে আব্দুর রহমান (২২), রাজারগাঁও গ্রামের তেরাব আলীর ছেলে আতাউর রহমান (২৬), বাদাঘাট এলাকার হাজী আব্দুর রহমানের ছেলে সুরুজ আলী (২০) এবং একই গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে মাহবুব আমিন (২১)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য। মামলার ২ নম্বর আসামি মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এবং ১ নম্বর আসামি ওই কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বাদী আরও উল্লেখ করেন, তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থানীয় কর্মী। তার ছেলে আরিফ মিয়া বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২৯/০৭/২০২৪ তারিখে দুপুর ১২টার দিকে আরিফ মিয়া জালালাবাদ থানাধীন তেমুখী এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাস্তা অবরোধ করে অন্যান্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় আসামিরা অজ্ঞাত স্থান থেকে তিনটি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনরত জনতার ওপর এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ শুরু করে। একপর্যায়ে ২ নম্বর আসামি আব্দুর রহমানের নির্দেশে অন্যান্য আসামিরা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে। তখন ১ নম্বর আসামি নাহিদুল ইসলাম তার হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আরিফ মিয়াকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিটি আরিফের বুকে লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে অন্যান্য আসামিরা আন্দোলনরত জনতার ওপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় আরিফ মিয়াকে দ্রুত মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ প্রায় দশ মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এ বিষয়ে জালালাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, কোটা সংস্কার আন্দোলনে আহত জুলাই যোদ্ধা আরিফ মিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আরিফ মিয়ার মৃত্যুর পর মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা সংযোজনের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়া পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন