- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

কুলাউড়ায় এমপির নির্দেশনায় প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন

কুলাউড়ায় ইউএনও এবং পুলিশ প্রশাসনকে পাশে রেখে সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকুর নির্দেশনায় কুলাউড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সার্বিক বিষয় নিয়ে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন আলহাজ্ব শওকতুল ইসলাম শকু এমপি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুস্তাফিজুর রহমান ও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এস এম জামান মতিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক রেদওয়ান খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুক্তাদির মনু।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে কুলাউড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এম শাকিল রশীদ চৌধুরীকে আহবায়ক ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক মো: মছব্বির আলীকে সদস্য সচিব করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন ময়নুল হক পবন, মোক্তাদির হোসেন, এম আতিকুর রহমান আখই, নাজমুল বারী সোহেল, তাজুল ইসলাম, মাহফুজ শাকিল ও রফিকুল ইসলাম মামুন।

এদিকে দুটি প্রেসক্লাব ভেঙে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন হলে (প্রেসক্লাব কুলাউড়া) নামে সাংবাদিকদের আরেকটি বৃহৎ অংশ এমপি শকুর তত্ত্বাবধানে করা এই সংগঠনে যুক্ত হয়নি। তাছাড়া সাংবাদিকদের স্বতন্ত্র সংগঠন প্রেসক্লাব গঠন বা বিলুপ্ত প্রক্রিয়ায় এমপি ইউএনও এবং পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে কিভাবে হয় তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানান সংশয়।

এ ব্যাপারে প্রেসক্লাব কুলাউড়ার সভাপতি দৈনিক যুগান্তরের কুলাউড়া প্রতিনিধি আজিজুল ইসলাম বলেন, আমরা আমাদের প্রেসক্লাব বিলুপ্ত করিনি। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আছি। নানা মতানৈক্যের কারণে প্রেসক্লাব কুলাউড়া এমপির গঠিত প্রেসক্লাবের সাথে যুক্ত হয়নি। আমাদের তিলে তিলে করে গড়ে তোলা ৩০ বছরের প্রাণের সংগঠন প্রেসক্লাব বিলুপ্ত করে অধিকাংশ সদস্যরা তাদের গঠিত প্রেসক্লাবে যুক্ত হতে রাজি হননি। তবে যারা সেই প্রেসক্লাবে যেতে ইচ্ছুক, আমরা তা ওপেন করে রেখেছিলাম এবং ইতিমধ্যে ২-৩ জন সেখানে চলে গেছেন। আজিজ আরো জানান তারা কেনো ওই প্রেসক্লাবে যুক্ত হতে চাননি তা গতকাল সেই প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশের পর অনেকেই অনুমান করছেন।

প্রেসক্লাব কুলাউড়ার সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আমার দেশ-এর প্রতিনিধি চৌধুরী আবু সাঈদ ফুয়াদ বলেন, প্রেসক্লাব হচ্ছে সাংবাদিকদের একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন পেশা, আমরা নিরপেক্ষ স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাই তাই সকল সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে এমপির প্রেসক্লাবে আমরা যুক্ত হইনি। তবে আমরা জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সকল বৈধ ভালো কাজে আমাদের লেখনীর মাধ্যমে সর্বদা সহযোগিতা থাকবো।

প্রেসক্লাব কুলাউড়ার সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক মানবজমিনের কুলাউড়া প্রতিনিধি আলাউদ্দিন কবির বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠিত প্রেসক্লাব অনেক চড়াই-উতরাই পার করে আজ ৩০ বছর অতিক্রম করেছে। সাংবাদিকতার জীবনে কারো কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের মুখোমুখি হতে হয়নি আমাদের, তাই আমরা স্বাধীন স্বতন্ত্র সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার লক্ষ্যে নবগঠিত সেই প্রেসক্লাবে যুক্ত হয়নি।

এদিকে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক সাংবাদিক জানান, এমপি শকু চান তার আন্ডারে প্রেসক্লাব থাকুক তাই তিনি সব সাংবাদিককে এক করার জন্য স্বাক্ষর নিতে আসেন আমাদের কাছে, যেন স্বাক্ষর দিয়ে তার প্রেসক্লাবে যোগ দেই। সেজন্য তিনি বিএনপি-ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মীদের পাঠিয়েছেন বাসায়। আমরা চাই স্বাধীনভাবে কাজ করতে, সেজন্য তাঁর গঠিত প্রেসক্লাবে যাইনি। তাছাড়া, প্রেসক্লাব বা সাংবাদিক সংগঠন হচ্ছে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এখানে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা প্রশাসন হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এটা সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের সামিল, যা মৌলভীবাজারের ইতিহাসে এই প্রথম। এটা লজ্জাজনক।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন