সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার খশিরবন্দ এলাকায় কুশিয়ারা নদীর অব্যাহত ভাঙনে চরম বিপদের মুখে পড়েছেন শ্রী নারায়ন রবি দাস নামে এক অসহায় বৃদ্ধ। প্রায় অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে গড়ে তোলা তার একমাত্র বসতভিটা এখন নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।
জানা যায়, গত ৪ থেকে ৫ বছর ধরে কুশিয়ারা নদীর ভাঙন ক্রমশ তার বাড়ির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাড়ির পাশের বিস্তীর্ণ জমি নদীতে তলিয়ে গেছে। সর্বস্ব দিয়ে বারবার প্রতিরোধের চেষ্টা করেও ভাঙনের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়নি। ঋণ করে বাঁশের বেড়া ও অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে কোনোভাবে ঘরটি টিকিয়ে রাখলেও এখন তা আর সম্ভব হচ্ছে না। এ পর্যন্ত প্রায় ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকা ব্যয় করেও স্থায়ী কোনো সমাধান মেলেনি।
বর্তমানে তার বসতঘরের দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, যা যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। শারীরিকভাবে অসুস্থ ও আর্থিকভাবে অসহায় এই বৃদ্ধের পক্ষে নতুন করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, এই ঘরটিই তার পরিবারের একমাত্র আশ্রয়স্থল—যা হারালে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন।
পারিবারিক দিক থেকেও তিনি চরম দুর্দশায় রয়েছেন। কয়েক বছর আগে বড় ছেলে মৃত্যুবরণ করেছেন। বর্তমানে তার একমাত্র ছোট মেয়ে বিবাহযোগ্য। এমন পরিস্থিতিতে ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কা তার মেয়ের ভবিষ্যৎকেও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
ভুক্তভোগী জানান, তিনি একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেলেও দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ অবস্থায়, শ্রী নারায়ন রবি দাস তার বসতভিটা রক্ষার্থে জরুরি ভিত্তিতে একটি স্থায়ী গাইড ওয়াল নির্মাণসহ কার্যকর নদী ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আবেদন জানিয়েছেন। স্থানীয় এলাকাবাসীও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে আরেকটি পরিবার নদীগর্ভে হারিয়ে না যায়।
