লাখাই উপজেলার ২২শ হেক্টর জমির ১১ হাজার মেঃ টন ধান পানির নীচে। ফলে কৃষকদের মাঝে দেখা দিয়েছে ধান তুলতে না পারার হাহাকার। দুশ্চিন্তায় পড়েছে পরিবার পরিজন নিয়ে কৃষক। তাদের একটাই ভরসা ছিল বৈশাখ মাসের ফসল তুলে ছেলে মেয়েদের ভরনপোষণ, লেখা পড়ার খরচ ও সাংসারিক চাহিদা মিটিয়ে কোন রকম সমাজে বাস করে ছেলে মেয়েদের কে সুশিক্ষায় মানুষ করে গড়ে তুলা।কৃষকদের স্বপ্ন এক নিমিষেই শেষ।
গত ১ সপ্তাহের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা ফলে লাখাই উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের ২২শত হেক্টর জমির ফসল যার উৎপাদন ১১ হাজার মেট্রিক টন ধান আকষ্মিক বন্যায় পানিতে তলিয়ে গেছে। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষক তার ফসল তুলতে পারেনি এবং কেউ কেউ ধান কেটে আনলেও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ধানের খলায় ধান পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে উপজেলার লাখাই ইউনিয়ন ও বুল্লা ইউনিয়নের ফসলের ক্ষয়ক্ষতি বেশী হয়েছে। এ দিকে ফসলের জমিতে পানি উঠে যাওয়ায় যান্ত্রিক মেশিনে ধান কাটা অসম্ভব হয়ে পড়েছে ফলে দিনমজুর দিয়ে ধান কাটতে গেলে জন প্রতি মজুরি ৮ শ টাকা গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।
এ বিষয়ে বামৈ ইউনিয়নের ভাদিকারা গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন হঠাৎ করে বন্যায় জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কামলার দাবী সকাল ৯ থেকে ১২টা পর্যন্ত ধান কাইট্রা দিলে তাদের কে দিতে হবে ৮শ টাকা। তিনি আরও বলেন বর্তমানে রোদ না থাকায় ধান শুকাইতে পারছি না এবং ধান বিক্রিও করতে পারছি না।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ শাহাদুল ইসলাম বলেন লাখাই উপজেলায় এ বছর ১১২৫০ হেক্টর জমিতে বোরোধান আবাদ করা হয়েছিল কিন্তু আকষ্মিক বন্যায় ২২ শ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে যার উৎপাদন ১১ হাজার মেঃ টন ধান। বর্তমানে উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেয়ে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকার কাজ চলমান রয়েছে। বরাদ্দ আসলেই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করার জন্য কৃষিবিদ মোঃ শাহাদুল ইসলাম কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
