বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ যখন দিন দিন বাড়ছে, ঠিক সেই সময় লিবিয়ায় এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে অপহরণ করে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রবাসী সুমন মিয়াকে অপহরণ করে বিপুল অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগে সিলেটের বিয়ানীবাজার থেকে ছাদেক আহমদ (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে বিয়ানীবাজার থানাধীন বৈরাগীবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহীদুল ইসলাম সোহাগ। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম সুমন মিয়া নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানাধীন চর কিশোরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে প্রায় আট বছর আগে তিনি লিবিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে অবস্থানকালে আবু বক্কর নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ঘটনার প্রায় তিন মাস আগে সুমনের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে নবায়নের জন্য তিনি আবু বক্করের কাছে পাসপোর্টটি জমা দেন।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সুমন বাংলাদেশে অবস্থানরত তার পরিবারের সদস্যদের ফোন করে জানান, আবু বক্করসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জন তাকে অপহরণ করেছে এবং তার মুক্তির বিনিময়ে টাকা দাবি করছে। মুক্তিপণ না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
প্রাণভয়ে সুমনের পরিবারের সদস্যরা তার দেওয়া তিনটি মোবাইল নম্বরে বিভিন্ন সময় বিকাশের মাধ্যমে মোট ৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা পাঠান। তবে টাকা পাঠানোর পর থেকেই সুমনের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এরই মধ্যে ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর সকালে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি একটি মোবাইল নম্বর থেকে সুমনের ভাই রিয়াদ হোসেনকে ফোন করে আরও ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে আবু বক্করের মাধ্যমে সুমনকে হত্যা করা হবে বলেও পুনরায় হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় প্রবাসী সুমনের ভাই রিয়াদ হোসেন বাদী হয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে এবং অভিযানের মাধ্যমে ছাদেক আহমদকে গ্রেফতার করে।
স্থানীয়দের মতে, প্রবাসীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে এমন চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। তারা দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
র্যাব জানিয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।