হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে চার নারী ও এক পুরুষসহ পাঁচজনের আত্মহত্যার ঘটনায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। ধারাবাহিক এসব মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিটি ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্ত করছে পুলিশ।
সর্বশেষ শুক্রবার (১৭ জুলাই) উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের পুরাইকুলা গ্রামের গৃহবধূ সিমু আক্তার (২৫) বিষপান করেন। পরে স্বজনরা তাকে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তিনি মারা যান। তিনি ওই গ্রামের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
এর আগে ১৫ জুলাই উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে আনিতা বেগম (১৯) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা ছিলেন। তার স্বামী বুলবুল আহমেদ স্থানীয় একটি কারখানায় কর্মরত। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের বিষয়টি সামনে এলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ৬ জুলাই নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক প্রকাশ রেলী (২৬) আত্মহত্যা করেন। পরিবারের দাবি, ঋণের চাপ ও দীর্ঘদিনের মানসিক দুশ্চিন্তা তাকে এই পথ বেছে নিতে বাধ্য করেছে।
এরও আগে ৪ জুলাই জগদীশপুর চা বাগানের শ্রমিক সবিতা বাউরী (৩০) এবং একই দিনে উপজেলার খাটুরা গ্রামের সুমা সরকার (২০) আত্মহত্যা করেন। তবে এ দুটি ঘটনার কারণ সম্পর্কে তদন্ত এখনও চলমান।
স্বল্প সময়ের মধ্যে একের পর এক এমন ঘটনায় উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা। সচেতন মহলের মতে, পারিবারিক অশান্তি, দাম্পত্য কলহ, ঋণের বোঝা, বেকারত্ব, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, একাকীত্ব এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ অনেক মানুষকে চরম হতাশার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
এ বিষয়ে বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিজয় কুমার দত্ত বলেন, আত্মহত্যা সাধারণত কোনো একক কারণে ঘটে না। মানসিক, পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা চাপ একসঙ্গে কাজ করে একজন মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। তাই প্রতিটি ঘটনাকে সংবেদনশীলভাবে দেখা এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানো উচিত।
এ ব্যাপারে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, প্রতিটি ঘটনার আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তিনি বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধে পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংকটাপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
