- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

মাহারাম, শান্তিপুর নদীতে ১১ মাসে ২০ কোটি টাকার বালু লুট, রাজস্ব বঞ্চিত সরকার

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত থেকে বয়ে আসা যাদুকাটা নদীর শাখা নদী মাহারাম ও শান্তিপুর নদী। ইজারাবিহীন এই নদী গুলো থেকে গত ১১ মাসে ২০ কোটি টাকার বেশি বালু উত্তোলন করে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে বালুখেকো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এতে করে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার, নষ্ট হচ্ছে প্রকৃতি পরিবেশ প্রতিবেশ জীববৈচিত্র্য। কিন্তু দায়িত্বশীল কতৃপক্ষ কোনো জোড়ালো প্রদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। ফলে বালু খেকোরা বালু লুটের মহোৎসবে পরিনত করেছে ওই এলাকা। এতে করে নদী গুলোর আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে কয়েক লাখ ঘন ফুট বালু বড় বড় স্তূপ করে এখনও বিভিন্ন স্থানে। কিন্তু বালু জব্ধ করছে না প্রশাসন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

তারা জানায়, বালু উত্তোলন করায় নদীর তীরবর্তী বসত বাড়ি ভাঙ্গনের মুখে পরেছে, এছাড়াও প্রকৃতি পরিবেশ প্রতিবেশ জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে শ্রমিক নৌকা আটক করলেও মুলহোতারা রয়েছে অধরা। এদিকে গত দুই মাসের কোনো অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় বালু খেকোরা আরোও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এদিকে শান্তিপুরের বালু উত্তোলন করে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কায্যালয়ের সামনে রেখেছে বালু খেকো চক্র। তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক প্রকাশ হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান মানিক শনিবার সকালে জব্দ করে। কিন্তু এর সাথে জড়িত কাউকে পান নি। তবে নাম পরিচয় খোঁজা হচ্ছে।

এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি শাহরুখ আলম শান্তনু, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক বাদল মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ,যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলমসহ অনকেই উপস্থিত ছিলেন।

এসয়ম অনেকেই বলছেন স্তুপ করে রাখা বালু আলোচিত শান্তিপুর নদী থেকে এসে এখানে রাখা হয়েছে। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমিকে নির্দেশনা দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,  তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়ন শান্তিপুর ও মাহারাম নদী থেকে দিনে ও রাতে ৫ আগষ্টের পর থেকে বালু লুটের মহোৎসবে পরিনত হয়েছে। এতে করে কম হলে ২০ কোটি টাকার বালু উত্তোলন করে বিক্রি করেছে বালু খেকোরা। এছাড়াও আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে এলাকার বিভিন্ন স্থানে স্তূপ করে রেখেছে। প্রতি রাতে উপজেলা শাহগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায়, কাউকান্দি, টাকাটুকিয়া, গাজীপুর, জামালগর, চিসকাসহ বিভিন্ন এলাকায় স্তুপ করে রাখা বালু নৌকায় ভর্তি করে মধ্যনগর, ধর্মপাশা, জামালগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে।

উপজেলার সচেতন মহল বলছেন, বালু লুটের মহোৎসব চালিয়েছে নদীর তীরবর্তী এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি ও জেলা, উপজেলার শক্তিশালী বালু খেকো চক্রটি। কিন্তু দায়িত্বশীল কতৃপক্ষ এনিয়ে কোন জোড়ালো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বাড়ছে বালু লুটের মহোৎসবে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

আসাদুজ্জামান হিরু নামে একজন তার ফেইসবুক আইডিতে লিখেছেন, আলোর নিচে অন্ধকার দেখেছে আলোর মুখ! ইউএনও অফিসে সামনে মজুদ করা শান্তিপুরের লুটের বালু! সকল বালু জব্দ করেছেন উপজেলা প্রশাসন। বালির মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস। অনেক ধন্যবাদ তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিককে! তবে এই বালু যেন আবার সরিয়ে না ফেলে এই প্রশ্ন এলাকাবাসীর। তবে আর কত রমরমা ব্যবসা করবে চোরের দল।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কায্যালয়ের সামনে বালু জব্দের পর মালিক না পাওয়ার বিষয়ে ফয়সাল আবেদিন সেনা নামে আরেক ব্যক্তি লিখেছেন, “তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসনের সামনে বালু জ্বিনে আনছে। এখন কেউ স্বীকার আসছেনা, মালিক খোঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।সবাই দুধে ধুয়ো তুলসীপাতা ফেরেশতা সাধু সন্ন্যাসী”।

সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম লিখেছেন, যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহেরপুরে uon যদি জড়িত থাকে উনার বিরুদ্ধে ঊর্দতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাচ্ছি উনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উনার নামে অনেক কিছু শুনছি।

উপজেলা বিএনপির আহবায়ক বাদল মিয়া জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তিপুর ও মাহারাম নদী থেকে বালু উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধে ঐ এলাকায় গিয়ে সবার সাথে বসে আলোচনা করে, কমিটি গঠন, বাঁশের বেড়া দিলেও বালু খেকোদের প্রতিরোধ করা করতে পারছে না। এদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোনো অনিয়মকে ছাড় দেয়া হবে না। যারা এই অনিয়ের সাথে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন