মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি তরুণের কারাদণ্ড

অভিবাসী পাচার ও মানবপাচারবিরোধী আইনে দোষী সাব্যস্ত এক বাংলাদেশি তরুণকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন মালয়েশিয়ার শাহ আলম হাইকোর্ট।

শাহ আলম হাইকোর্টের (ক্রিমিনাল-৬) বিচারক গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এই দণ্ডাদেশ দেন। মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম) জানায়, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানবিরোধী আইন ২০০৭ (অ্যাক্ট ৬৭০)-এর ২৬ এইচ ধারায় দায়ের করা মামলায় ২১ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক রাব্বি হোসেনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। চারজন অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে গোপনে আশ্রয় ও সুরক্ষা দেওয়ার অভিযোগে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়।
আদালতে প্রমাণিত হয় যে, অভিযুক্ত রাব্বি হোসেন একটি অভিবাসী শেল্টার হাউসের কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, যা অবৈধভাবে অভিবাসী পাচারের ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দিন থেকেই সাজা কার্যকর হবে।
ইমিগ্রেশন বিভাগের সদর দপ্তরের পরিচালিত বিশেষ অভিযানের ফলেই এই মামলা উন্মোচিত হয়। ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর সেলাঙ্গরের পেটালিং জায়া এলাকার রুমাহ পাংসা রাম্পাই ইদামান ও প্রাইমা দামানসারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি আবাসিক ইউনিট থেকে অভিযুক্তসহ চারজন বাংলাদেশি অভিবাসীকে আটক করা হয়।
জেআইএম এক বিবৃতিতে জানায়, অভিবাসী চোরাচালান ও মানবপাচার রোধে তাদের অভিযান ও আইনি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অবৈধ অভিবাসী (পিএটিআই) নিয়োগ, আশ্রয়, সুরক্ষা বা ষড়যন্ত্রে জড়িত ব্যক্তি, চক্র, নিয়োগকর্তা কিংবা ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া, জনগণকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের সহায়তা বা আশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যেকোনো অবৈধ কার্যকলাপের তথ্য জেআইএমের নির্ধারিত অভিযোগ চ্যানেলের মাধ্যমে জানাতে অনুরোধ করা হয়।
মালয়েশিয়ার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় ইমিগ্রেশন বিভাগ ভবিষ্যতেও নজরদারি ও আইন প্রয়োগ কার্যক্রম আরও জোরদার করবে বলে জানিয়েছে।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন