মার্চ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৯৮ শিশু, ৬৬ নারী নিহত

আগের মাসের চেয়ে গত মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েছে। মার্চে ৫৭৬ সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত হয়েছেন, যা ফেব্রুয়ারির চেয়ে ১১.২৮ শতাংশ বেশি। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই হাজার ২২১ জন। নিহতের মধ্যে ৬৬ নারী ও ৯৮ শিশু রয়েছেন। গতকাল শনিবার প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নিহতের ৩৮.৩৪ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। মার্চে ২১৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২০৪ জন নিহত হন। এ ছাড়া ৭৯ পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ১৪.৮৪ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৬ জন (১২.৪০ শতাংশ)।

এ সময় সড়কের পাশাপাশি ১৪টি নৌ দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত ও তিনজন নিখোঁজ হয়েছেন। একই সময়ে ৪৮টি রেল দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত ও ২২৪ জন আহত হয়েছেন।

সংস্থাটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ২০৪ জন (৩৮.৩৪ শতাংশ), থ্রিহুইলার যাত্রী ৯৪ জন (১৭.৬৬ শতাংশ), প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাসের ৪৬ জন (৮.৬৪ শতাংশ), বাসযাত্রী ৪৫ জন (৮.৪৫ শতাংশ) এবং ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টরে ২৮ জন (৫.২৬ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে, ২৬৪টি (৪৫.৮৩ শতাংশ)। জাতীয় মহাসড়কে ১৭১টি (২৯.৬৮ শতাংশ), গ্রামীণ সড়কে ৭০টি (১২.১৫ শতাংশ) এবং শহরের সড়কে ৬২টি (১০.৭৬ শতাংশ) দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ভারী যানবাহন ২৪.৬০ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২৪.২০ শতাংশ এবং থ্রিহুইলার ১৯.৮৪ শতাংশ। মোট এক হাজার আটটি যানবাহন এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪০.১০ শতাংশ দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ২৮.৮১ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষে এবং ১৪.৯৩ শতাংশ পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার কারণে ঘটেছে।

সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সকালে (২৩.২৬ শতাংশ) ও দুপুরে (২২.৯২ শতাংশ) দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে। রাতে দুর্ঘটনার হার ২১ শতাংশ। বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে সর্বনিম্ন ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হন। ঢাকায় ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ৭৯ শিক্ষার্থীও প্রাণ হারিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে অতিরিক্ত গতির কারণে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। এ ছাড়া ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, চালকদের অদক্ষতা, অনিয়ন্ত্রিত কর্মঘণ্টা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন