মায়ের চোখে জল, মেয়ের চোখে দেশ: সুবর্ণার অন্যরকম ঈদ

পবিত্র ঈদুল ফিতর। চারদিকে খুশির আমেজ, ঘরে ঘরে সেমাই-পায়েসের ঘ্রাণ আর প্রিয়জনদের মিলনমেলা। যখন পুরো দেশ উৎসবে মাতোয়ারা, তখন হবিগঞ্জ জেলার ১০৩ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় দেখা গেল ভিন্ন এক চিত্র।

উৎসবের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে আছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যরা। তাদেরই একজন নারী বিজিবি সদস্য সুবর্ণা। ঈদের সকালে যখন ঘরে ঘরে আনন্দ, তখন সুবর্ণার ফোনে ভেসে ওঠে মায়ের মুখ। ভিডিও কলে ওপাশ থেকে মা যখন কাঁদছিলেন আর বারবার বাড়ি ফেরার তাগাদা দিচ্ছিলেন, তখন সুবর্ণার চোখের কোণেও জমা হয়েছিল দু’ফোঁটা জল। কিন্তু ব্যক্তিগত আবেগ আর পরিবারের টানকে তুচ্ছ করে তিনি বেছে নিয়েছেন দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্ব। সুবর্ণার নিজের ফোনের স্ক্রিনে তখন মায়ের অশ্রুসজল মুখ, আর মায়ের ফোনের স্ক্রিনে ডিউটির পোশাকে প্রিয় মেয়ের প্রতিচ্ছবি। প্রযুক্তির এই ভিডিও কলেই যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল কর্তব্য আর মমতা। সুবর্ণার মতো শত শত বিজিবি সদস্য আজ পরিবার-পরিজন থেকে দূরে। হ

বিগঞ্জ জেলার ১৬টি বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) থেকে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। ঈদের এই ছুটিতে যাতে। চুনারুঘাট মাধবপুর সীমান্তে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ, চোরাচালান বা অবৈধ কার্যক্রম না ঘটে, সেজন্য টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তে কর্তব্যরত বিজিবি সদস্য কামাল মিয়া বলেন, নিজের ঈদ বিসর্জন দিয়ে দেশের মানুষের ঈদ নিরাপদ রাখাই আমাদের সার্থকতা। বিজিবি সূত্র জানায়, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে অতিরিক্ত চেকপোস্ট। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজেদের আনন্দ বিসর্জন দেওয়াকে তারা পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের অংশ হিসেবেই দেখছেন। ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ তানজিলুর রহমান, বিজিওএম বলেন- হবিগঞ্জ জেলার ১০৩ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় ১৬টি বিওপি থেকে ২৪ ঘণ্টা দিবারাত্রি টহল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে ঈদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সুবর্ণার সেই মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ডিউটির ফাঁকে মায়ের সাথে ফোনে কথা বলার সময় তার সেই ত্যাগ মেশানো কণ্ঠস্বর মনে করিয়ে দেয়-আমাদের উৎসবের আড়ালে সীমান্ত পাহারাদারদের কতটা বিসর্জন দিতে হয়। বিজিবির এই নিরলস দায়িত্ব পালন সাধারণ মানুষের কাছে আজ দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দেশের জন্য সুবর্ণাদের এই ত্যাগই নিশ্চিত করছে কোটি মানুষের নিরাপদ ঈদ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন