বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবু শুরাইহ খুজায়ি (রা.)-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা.) বলেছেন, মেহমানদারি তিন দিন, আর উত্তম মেহমানদারি একদিন–একরাত্রি। কোনো মুসলমানের জন্য এটা বৈধ নয় যে সে তার ভাইয়ের কাছে থেকে তাকে দিয়ে পাপ করাবে। সাহাবারা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, কিভাবে সে তাকে দিয়ে পাপ করাবে?
তিনি বললেন, সে (মেহমান) তার কাছে (বেশিদিন) থাকবে, অথচ তার (মেজবানের) এমন সামর্থ্য নেই যা দিয়ে সে তার মেহমানদারি করবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৪৪০৬)
শিক্ষা ও বিধান
১. মেহমানদারি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিষ্টাচার : অতিথির প্রতি সম্মান প্রদর্শন, সাধ্যমতো আপ্যায়ন করা এবং তার আরাম-আয়েশের প্রতি খেয়াল রাখা ইসলামের উত্তম শিক্ষা।
২. মেহমানদারির নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে : রাসুলুল্লাহ (সা.) মেহমানদারির সময়সীমা তিন দিন বলে উল্লেখ করেছেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, অতিথি আপ্যায়নেরও একটি শালীন ও ভারসাম্যপূর্ণ সীমা রয়েছে।
৩. প্রথম দিন ও রাতের মেহমানদারি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ : হাদিসে এক দিন ও এক রাতকে উত্তম মেহমানদারি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ অতিথির আগমনের পর প্রথম দিন ও রাতে বিশেষ যত্ন নেওয়া মেজবানের অন্যতম দায়িত্ব।
৪. মেজবানের সামর্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখা জরুরি : অতিথির উচিত মেজবানের আর্থিক অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি ও সুযোগ-সুবিধা বিবেচনা করে অবস্থান করা। নিজের আরাম-আয়েশের জন্য তাকে যেন কষ্টে পড়তে না হয়।
৫. মেজবানকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা : অতিথির দীর্ঘ অবস্থানের কারণে মেজবান যদি আর্থিক বা মানসিক সংকটে পড়েন, তবে তা অতিথির অনুচিত আচরণের ফল হতে পারে। ইসলাম কারো ওপর অযথা বোঝা চাপিয়ে দেওয়াকে সমর্থন করে না।
৬. ভালো কাজের নামে অন্যকে বিপদে ফেলা উচিত নয় : অতিথি আপ্যায়ন একটি প্রশংসনীয় কাজ; কিন্তু অতিথির এমন আচরণ করা উচিত নয়, যার কারণে মেজবান অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিজের সামর্থ্যের বাইরে ব্যয় করতে বাধ্য হন।
