- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

মেসির এক গোল, দুই অ্যাসিস্ট, জয় দিয়ে বিদায় আর্জেন্টাইন মহাতারকার

লিওনেল মেসির এক গোল ও দুই অ্যাসিস্টে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচে গোল করে এবং সতীর্থদের দিয়ে দুটি গোল করিয়ে বিদায়টা স্মরণীয় করে রাখলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে করা গোলে জাতীয় দলের হয়ে নিজের গোলসংখ্যা ১২৬-এ নিয়ে গেছেন মেসি।

বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে ম্যাচটি শুরু হয়। জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ হওয়ায় শুরু থেকেই ছিল বাড়তি উন্মাদনা। তাকে বিদায় জানাতে স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন বিপুলসংখ্যক আর্জেন্টাইন সমর্থক। প্রথমার্ধে দুই দলই বেশ কয়েকটি আক্রমণ করে। তবে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। অবশ্য প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার বড় সুযোগগুলোর একটি এসেছিল মেসির সামনে।

ম্যাচের ৩২ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের পাস খুঁজে নেয় মেসিকে। বাঁ পায়ে বলের নিয়ন্ত্রণও নেন তিনি। কিন্তু ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় ঠিকমতো শট নিতে পারেননি। বল পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। প্রথমার্ধে বেনিনের বক্সে মোট ছয়বার বল স্পর্শ করেন মেসি। এ সময়ে সর্বোচ্চ চারটি শটও নেন তিনি। প্রথমার্ধ শেষে স্টেডিয়ামে সংগীত পরিবেশন করে আর্জেন্টিনার বিখ্যাত গানের দল ‘লোস ফুন্দামেনতালিস্তাস’।

বিরতির পর যেন বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৪৮ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে পাওয়া বল ভলিতে জালে পাঠান নিকোলাস ওতামেন্দি। মেসির কর্নার থেকে বক্সের ভেতর বল পান ওতামেন্দি। সুযোগ কাজে লাগিয়ে দারুণ ভলিতে বল জালে জড়ান ৩৮ বছর বয়সী এই সেন্টার ব্যাক। এতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

গোলের মিনিট দুয়েক পরই ওতামেন্দিকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারি থেকে তিনি পান দাঁড়িয়ে অভিবাদন। সতীর্থরাও হাত মিলিয়ে তাকে বিদায় জানান। মেসির পাশাপাশি আজ আর্জেন্টিনার জার্সিতে ওতামেন্দিরও বিদায়ী ম্যাচ।

এরপর আবারও মেসির ছোঁয়ায় গোল পায় আর্জেন্টিনা। বাঁ দিক থেকে মেসির বাড়ানো বল পান নিকো পাজ। বক্সে ঘুরে বাঁকানো শটে বল পাঠান বাম কোণ দিয়ে।

বেনিনের গোলরক্ষকের এই শট ঠেকানোর কোনো সুযোগ ছিল না। ফলে বিদায়ী ম্যাচে দ্বিতীয় গোলেও সরাসরি অবদান রাখেন মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে দুটি গোল করানোর কৃতিত্ব যায় তার নামের পাশে। এরপর নিজের গোলের জন্যও বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে।

৬৮ মিনিটে বেনিনের বক্সে অগাস্টিন জিয়া ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন মেসি। ৭১ মিনিটে বল স্পটে বসিয়ে নিখুঁত শটে গোল করেন তিনি। ডান দিকের ওপরের কোণ দিয়ে জালে পাঠানো মেসির জোরালো শট ধরার কোনো সুযোগই ছিল না বেনিনের গোলরক্ষকের।

গোলরক্ষক দিক বুঝতে পারলেও বলের নাগাল পাননি। মেসির শট গিয়ে জড়ায় জালের ওপরের কোণায়। এই গোলের মাধ্যমে জাতীয় দলের হয়ে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১২৬-এ। বিদায়ী ম্যাচে তার নামের পাশে এখন এক গোল ও দুই সহায়তা। গোলের পর সতীর্থরা মেসিকে ঘিরে উদ্‌যাপন করেন। তাকে বৃত্তের মাঝে রেখে চলে আনন্দ-উল্লাস।

মেসির জন্য এই ম্যাচের গুরুত্ব ছিল অন্যরকম। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি তার শেষ ম্যাচ। তাই বেনিনের বিপক্ষে লড়াইয়ের শুরু থেকেই মেসিকে ঘিরে ছিল বাড়তি আবেগ। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ওতামেন্দির গোলে স্বস্তি ফেরে আর্জেন্টাইন শিবিরে। এরপর নিকো পাজের গোল এবং মেসির পেনাল্টি গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে।

শেষ পর্যন্ত মেসির এক গোল ও দুই সহায়তায় ৩-০ গোলের জয় পায় আর্জেন্টিনা। জয় দিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের বিদায়ী ম্যাচটিও স্মরণীয় করে রাখলেন আর্জেন্টাইন মহাতারক

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন