কম দামে ও সহজ কিস্তিতে মোবাইল ফোন দেওয়ার লোভ দেখিয়ে এক মুসলিম তরুণীকে গেস্ট হাউজে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন পরিমল পাল নামের ব্যবসায়ী। তবে আইনি আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের চৌমুহনা এলাকার ‘টি টাউন গেস্ট হাউজে’ এ ঘটনা ঘটে।
আটক পরিমল পাল উপজেলার সদর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকার বাসিন্দা এবং শহরের মক্কা মার্কেটের ‘গীতা টেলিকম’-এর মালিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিমল পাল দীর্ঘদিন ধরে সহজ শর্তে মোবাইল দেওয়ার কথা বলে মুসলিম তরুণীদের ফাঁদে ফেলে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গেস্ট হাউজে তরুণীসহ তাঁকে আটক করে উপস্থিত জনতা। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে দাবি করেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; দীর্ঘদিন ধরেই সুকৌশলে এমন ফাঁদ পেতে আসছিলেন উক্ত ব্যবসায়ী। তাদের অভিযোগ, পরিমল সনাতনীদের ইস্কন সদস্যও, যারা মুসলিম মেয়েদের ফাঁদে ফেলে সম্ভ্রমহানী করে বেড়ায়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় একদল মধ্যস্থতাকারী অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় প্রবীণ ও সচেতন মহলের মতে, লোকলজ্জার ভয় এবং অর্থের মাধ্যমে অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।
শ্রীমঙ্গলের সর্বস্তরের জনগণ ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িত ব্যবসায়ী ও মধ্যস্থতাকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, ঘটনার শিকার তরুণীর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। লোকলজ্জার ভয় ও নিরাপত্তার স্বার্থে তার পরিবারও এ বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পরিমল পাল আত্মগোপনে থাকায় তার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। ভুক্তভোগী পরিবার বা অন্য কেউ অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
