- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

মৌলভীবাজার পাসপোর্ট অফিসে হয়রানি: ডাটা নেই অজুহাতে কাতার প্রবাসীর ভোগান্তি

জরুরি ছুটিতে দেশে এসে সামান্য একটি কাজের জন্য দিনের পর দিন সরকারি দপ্তরে ঘুরে চরম হয়রানি ও দালাল সিন্ডিকেটের শিকার হয়েছেন কাতার প্রবাসী মুজিবুর রহমান মুকিদ মিয়া। মৌলভীবাজার পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়াতে গিয়ে তাকে এই ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়। প্রবাসীদের রক্তজল করা আয়ে চলা দেশের অর্থনীতিতে যাদের অবদান অনস্বীকার্য, সেই প্রবাসীদের সঙ্গেই এমন আচরণ তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

​ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুজিবুর রহমান মুকিদ মিয়ার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার তেলিজুরী গ্রামে। জরুরি ছুটিতে দেশে এসে তিনি নিয়ম অনুযায়ী পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য মৌলভীবাজার পাসপোর্ট অফিসে আবেদন করেন। সব প্রক্রিয়া শেষে ছবি তুলতে গেলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, অনলাইনে তার মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (MRP)-এর কোনো ডাটা নেই।

​এ বিষয়ে প্রবাসী মুজিবুর রহমান মুকিদ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে প্রবাসে বসবাস করছেন এবং এর আগেও একাধিকবার পাসপোর্ট নবায়ন করেছেন। তার প্রশ্ন যদি অনলাইনে ডাটা না-ই থাকে, তবে এর আগের পাসপোর্টগুলো কীভাবে প্রস্তুত হলো?

​এরপর ইমেইলের মাধ্যমে সমস্যাটি ঠিক করে দেওয়ার কথা বলে অফিস থেকে তাকে একদিনের সময় দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী চার দিন অফিসে ঘুরেও কোনো সমাধান পাননি তিনি। তার অভিযোগ, মূলত টাকা না দেওয়াই তাকে এই ধারাবাহিক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। উৎকোচ দিলেই মুহূর্তের মধ্যে এ ধরনের সমস্যা সমাধান করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন এই প্রবাসী।

​অফিসের ভেতরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও ভিডিও ধারণ:

টানা কয়েকদিন ধরে এমন হয়রানির শিকার হয়ে মুকিদ মিয়া একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং প্রতিবাদ জানিয়ে উচ্চস্বরে কথা বলতে শুরু করেন। এর জবাবে পাসপোর্ট অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও তার সাথে উচ্চস্বরে কথা বলেন। উভয় পক্ষের এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির একটি ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, ভুক্তভোগী প্রবাসী ও অফিস কর্মকর্তার মধ্যে বাগবিতণ্ডা চলছে এবং কর্মকর্তা বেশ উগ্র ও উচ্চস্বরে কথা বলছেন। দায়িত্বশীল সরকারি কর্মচারীদের এমন অসৌজন্যমূলক আচরণ উপস্থিত লোকজনকে ব্যথিত করে।

​হতাশা প্রকাশ করে মুজিবুর রহমান মুকিদ মিয়া বলেন, “আমি একজন প্রবাসী, নির্ধারিত সময়ে আমাকে প্রবাসে ফিরে যেতে হবে। এভাবে দিনের পর দিন হয়রানি করলে আমি কীভাবে যাব, কী হবে আমার? নিরুপায় হয়ে আমি এই হয়রানির ভিডিও ধারণ করেছি।”

​ছুটির দিনগুলোতে পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর কথা থাকলেও প্রবাসী মুজিবুর রহমানের মতো অনেকেই দেশে এসে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য ও বিভিন্ন দপ্তরের সেবা পেতে গিয়ে পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। প্রবাসীদের জীবনযাত্রার এই নির্মম বাস্তব চিত্র ও কষ্টার্জিত ছুটির অপচয়ের প্রতিকারে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন