মুজিব বন্দি ছিলেন, জিয়াই স্বাধীনতার ঘোষণা দেন: মির্জা ফখরুল

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৯৭১ সালে কোনো এক ব্যক্তির নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়নি। সে সময় শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন এবং ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার প্রেক্ষাপটে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। শনিবার দুপুরে মাধবপুরের তেলিয়াপাড়ায় আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন-সেদিন দেশের মানুষ দিক-নির্দেশনা না পেয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে সংগঠিত করেন।” তিনি আরও বলেন, তেলিয়াপাড়া থেকেই মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় এবং জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনায় মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী-এর নেতৃত্বে যুদ্ধ পরিচালিত হয়। সমাবেশে তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি এবং ওসমানীর যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। এ সময় তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-এর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার সময় সেনা সদস্যরা খালেদা জিয়ার কাছে পরামর্শ চাইলে তিনি অস্ত্র সমর্পণ না করার আহ্বান জানান। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব হুমায়ূন কবিরের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, তেলিয়াপাড়া দিবস দেশের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এর গুরুত্ব বিবেচনায় দিবসটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণার বিষয়ে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে এ ইতিহাস তুলে ধরতে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ এমপি, হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সাল, জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ এবং পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশ ঘিরে তেলিয়াপাড়ায় দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন