রেমোর বিপক্ষে সান্তোসের জয়ে নেইমারের আচরণ নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। তার আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গনেও। ব্রাজিলের বেলেম সিটি কাউন্সিলেও পৌঁছে গেছে সেই বিতর্ক। কাউন্সিলর মারিনোর ব্রিতো (পিএসওএল) বেলেম শহরে সান্তোসের এই তারকাকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ (অবাঞ্ছিত ব্যক্তি) ঘোষণা করার প্রস্তাব দেন। তবে সেই প্রস্তাবটি কাউন্সিলের বোর্ড গ্রহণ করেনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে মারিনোর ব্রিতো লিখেছেন, ‘একজন বিলিয়নিয়ার বেলেমে এসে আমাদের রাজ্যের খেলোয়াড়দের অসম্মান করলেন। অথচ বোর্ড আমার প্রস্তাবটি ভোটেই তুলতে দিলো না। রেমোর বিপক্ষে ম্যাচে নেইমার পারা রাজ্যের খেলোয়াড়দের মৌখিকভাবে অপমান করেছেন। এটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, পুরো আমাজন অঞ্চলের প্রতি অসম্মান।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার প্রস্তাব ভোটে না তোলা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী এবং কাউন্সিলের নিজস্ব বিধিও লঙ্ঘন করেছে। তার ভাষায়, ‘বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত ভুল। এটি গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার লঙ্ঘন। নেইমারের আগ্রাসী আচরণের জন্য তাকে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণার প্রস্তাব আমি তুলে নিয়েছি এমন নয়। বোর্ড গ্রহণ না করায় এটি ভোটে ওঠেনি।’
কী ঘটেছিল?
ম্যাচ শেষে বেলেমের মাঙ্গেইরাও স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমের প্রবেশপথে নেইমারের সঙ্গে রেমোর কর্মকর্তা ও সদস্যদের উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়। সাংবাদিক ব্রেনো রাইওল ধারণ করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথমে কেউ একজন নেইমারকে উদ্দেশ করে গালাগাল করেন। এরপর সান্তোসের ১০ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় যোগ্যতা অর্জনের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে করতে প্রতিপক্ষের উদ্দেশে চিৎকার করে বারবার ‘তোমরা বাদ পড়েছ’ এবং ‘এটাই সান্তোস’ বলতে থাকেন। একই সঙ্গে অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেও প্রতিপক্ষকে উসকানি দেন।
একপর্যায়ে রেমো সমর্থক ও প্রতিনিধিদলের কয়েকজন নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে এগিয়ে আসেন, ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে সান্তোসের কর্মকর্তারা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। ঘটনার পর রেমো সভাপতি আন্তোনিও কার্লোস তেইশেইরা (তোনিয়াও) নেইমারের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘রেমো দারুণ একটি অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু সান্তোসের এমন কিছুর প্রয়োজন ছিল না। নেইমার, যাকে অসংখ্য শিশু আদর্শ মানে, এখানে এসে ভাঁড়ামো করেছে এবং আমাদের উসকানি দিয়েছে। এমন মানুষদের নায়ক বানানোর দায় আমাদেরও আছে।’