নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বলেন্দ্র শাহ

নেপালের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়লেন র‍্যাপার-রাজনীতিক বলেন্দ্র শাহ। শুক্রবার (২৭ মার্চ) শীতল নিবাসে প্রেসিডেন্ট ভবনে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। বিবিসি ও কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

৩৫ বছর বয়সী বলেন্দ্র শাহ নেপালের সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী এবং প্রথম মাধেসি সম্প্রদায়ের নেতা হিসেবে এই পদে আসীন হলেন। রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)-এর নেতৃত্বে তার দল নির্বাচনে বিপুল বিজয় অর্জন করে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসন দখল করেছে।

তরুণ প্রজন্মের বিদ্রোহ ও রাজনৈতিক পরিবর্তন

গত বছর সেপ্টেম্বরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দিলে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও এলিট শ্রেণির শাসনের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের (জেন-জি) আন্দোলনের ফলে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ওলির সরকারের পতন ঘটে।

এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ৫ মার্চের সংসদীয় নির্বাচনে পুরোনো রাজনৈতিক দল ও নেতাদের বিরুদ্ধে জনরোষ প্রকাশ পায়। ফলে আরএসপি-র মতো নতুন দল বিপুল জনসমর্থন লাভ করে।

বলেন্দ্র শাহর উত্থান

বলেন নামে পরিচিত বলেন্দ্র শাহ ১৯৯০ সালে কাঠমান্ডুতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এবং ভারতের বিশ্বেশ্বরায়া টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি নেপালের আন্ডারগ্রাউন্ড হিপ-হপ সংগীত জগতে র‍্যাপার ও গীতিকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার গানে প্রায়শই দুর্নীতি ও সামাজিক বৈষম্যের ইস্যু তুলে ধরতেন।

২০২২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডু মহানগরপালিকার মেয়র নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে তিনি প্রথম আলোচনায় আসেন। ঐতিহ্যবাহী বড় দলের প্রার্থীদের হারিয়ে ৬১ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে তিনি চমক সৃষ্টি করেন।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করে আরএসপিতে যোগ দেন এবং জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ৫ মার্চের নির্বাচনে ঝাপা-৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে তার নিজস্ব দুর্গে বড় ব্যবধানে (প্রায় ৫০ হাজার ভোটে) পরাজিত করেন। বলেন্দ্র ৬৮,৩৪৮ ভোট পান, যেখানে ওলি পান মাত্র ১৮,৭৩৪ ভোট।

বলেন্দ্র শাহর এই বিজয় এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ নেপালের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন