চীনের মধ্যাঞ্চলের এক প্রতিষ্ঠানের মালিক জানিয়েছেন, নিজের বিয়েতে মাকে না ডাকায় তিনি এক কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছিলেন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
হিনান প্রদেশের সিনশিয়াং শহরের হিনান কুয়াংশান ক্রেন কম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ছুই পেইজুন। অনলাইনে তিনি ‘চীনের সবচেয়ে উদার বস’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক অনুষ্ঠানে ছুই ৬ কোটি ইউয়ান নগদ বোনাস দেন। এর মূল্য প্রায় ৮৮ লাখ মার্কিন ডলার।
বছরের শেষের মোট বোনাস ১৮ কোটি ইউয়ানের বেশি ছিল বলেও জানানো হয়। ছুই বলেন, বেশি বেতন পেলে বাড়ির ঋণ ও গাড়ির ঋণের চাপ সামলাতে তরুণ কর্মীদের সুবিধা হবে। ২০০৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ছুই নিম্ন আয়ের পরিবারের ৪ হাজার ৮০০ জনের বেশি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ৩ কোটি ৫০ লাখ ইউয়ানের বেশি অনুদান দিয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দাসিয়াং নিউজ জানায়, ২১ জুলাই কম্পানিটি কর্মীদের ৩৩১ সন্তানকে নিয়ে একটি গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্নশিপ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছুই বলেন, বাবা-মায়ের প্রতি সম্মান দেখানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘বাবা-মায়ের প্রতি সম্মানই একজন ভালো মানুষ হওয়ার ভিত্তি।’ এরপর তিনি সেই ঘটনার কথা বলেন, যেখানে এক কর্মী নিজের মায়ের চেহারা নিয়ে লজ্জা পাওয়ায় তাকে বিয়েতে ডাকেননি। সেই কারণেই তিনি ওই কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন। ছুই ওই কর্মীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘তোমার যখন দুই বছর বয়স, তখনই তোমার বাবা মারা যান।
তারপরও তুমি তোমার মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ করলে?’ এরপর ওই কর্মীকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়।
পরে অন্য কোথাও চাকরি না পেয়ে ওই কর্মী ছুইয়ের অফিসে ফিরে আসেন। তিনি হাঁটু গেড়ে ক্ষমা চান। কিন্তু ছুই তাকে আবার চাকরিতে নেননি। তিনি বলেন, ‘তোমার প্রতি আমার কোনো সম্মান নেই। আমি দুঃখিত। কিন্তু তোমাকে চলে যেতে হবে।’ পরে ওই কর্মীর মা অবসরে গেলে ছুই তাকে নিজের কম্পানিতে সরবরাহ বিভাগে একটি চাকরি দেন বলে জানা যায়। সেখানে আগের সমান বেতন দেওয়া হয়। ছুই বলেন, তার আশঙ্কা ছিল, ছেলেটি হয়তো বৃদ্ধ বয়সে মায়ের দেখাশোনা করবে না। তবে এ বিষয়ে ওই নারী প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
ঘটনাটি খুব দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। চীনের মূল ভূখণ্ডের সামাজিক মাধ্যমে এটি ২ কোটি ৪০ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী ছুইয়ের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তাদের মতে, এই বরখাস্ত কম্পানির মূল্যবোধের সঙ্গে মিল রয়েছে এবং এটি ব্যবস্থাপনার বৈধ সিদ্ধান্ত। একজন লিখেছেন, ‘যে মানুষ নিজের বাবা-মাকে ভালোবাসতে পারে না, সে অন্যদের প্রতি ভালো হওয়ার শুধু ভান করে। তাকে ছাড়াই কম্পানির ভালো।’ আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘কাজের দক্ষতা শেখানো যায়। কিন্তু কৃতজ্ঞতা আর বাবা-মায়ের প্রতি সম্মান মানুষ হওয়ার সবচেয়ে মৌলিক মানদণ্ড।’
তবে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, একজন নিয়োগকর্তার কি কোনো কর্মীর ব্যক্তিগত নৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত? একজন মন্তব্য করেন, ‘একটি কম্পানি কিছু মূল্যবোধ প্রচার করতেই পারে। কিন্তু বাবা-মায়ের প্রতি সম্মান ব্যক্তিগত বিষয়। কর্মী যদি ঠিকভাবে নিজের কাজ করে থাকে, তাহলে তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া তার শ্রম অধিকার লঙ্ঘন হতে পারে।’ আরেকজন বলেন, ‘সত্যিকারের সভ্য সমাজে প্রতিষ্ঠানের মালিকদের নৈতিক বিচারক হওয়া উচিত নয়। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব আইনের।’
