‘প্রিয় এমপি মহোদয়, আপনিই আমাদের শেষ আশ্রয়’—এই আকুতি জানিয়ে সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বিয়ানীবাজার উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও প্রবাসী আবু বক্কর সিদ্দিক সুমন।
বিদ্যুতের মিটার ভাড়া নিয়ে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও প্রশ্নকে সামনে এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি জনপ্রতিনিধির কাছে এর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
খোলা চিঠির আদলে দেওয়া ওই বার্তায় আবু বক্কর সিদ্দিক সুমন লিখেছেন, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জের লাখো খেটে খাওয়া মানুষ প্রতিদিন জীবনের সঙ্গে লড়াই করে সংসার চালান। মাসের আয় দিয়ে চাল, ডাল, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও বিদ্যুৎ বিল—সবকিছুর হিসাব মেলাতে গিয়ে অনেক পরিবারকেই হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যে নিজের অর্থে কেনা বিদ্যুৎ মিটারের জন্য প্রতি মাসে ‘মিটার ভাড়া’ দেওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন মানুষ নিজের কষ্টার্জিত অর্থে একটি ফ্রিজ, টেলিভিশন কিংবা সাইকেল কিনলে সেটি ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে নতুন করে ভাড়া দিতে হয় না। তাহলে নিজের অর্থে কেনা ও স্থাপন করা বিদ্যুৎ মিটারের জন্য বছরের পর বছর কেন ‘মিটার ভাড়া’ দিতে হবে?
তার ভাষায়, “নিজের গায়ের ঘাম ঝরানো টাকায় কেনা জিনিস যদি নিজের সম্পদ হয়, তাহলে নিজের অর্থে কেনা মিটারের জন্য মরণের আগ পর্যন্ত ভাড়া দিতে হবে কেন?”
খোলা চিঠিতে তিনি আরও বলেন, একটি পরিবার যখন নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের স্বপ্ন দেখে, তখন সংযোগ ও মিটার স্থাপনের বিভিন্ন খরচ তাদের নিজেদেরই বহন করতে হয়। এরপর সেই মিটারের জন্য প্রতি মাসে আলাদা অর্থ পরিশোধ করতে হয়। সাধারণ মানুষের কাছে এটি শুধু একটি বিলের বিষয় নয়; এটি মাসের পর মাস চলতে থাকা একটি বাড়তি আর্থিক চাপ।
‘আমরা বিদ্যুৎ বিল দিতে চাই না—এমন নয়’—উল্লেখ করে আবু বক্কর সিদ্দিক সুমন বলেন, সাধারণ মানুষ ব্যবহৃত বিদ্যুতের প্রতিটি পয়সা পরিশোধ করতে প্রস্তুত। কিন্তু ‘মিটার ভাড়া’র নামে অতিরিক্ত এই বোঝা আর কতদিন বহন করতে হবে, সেটিই এখন তাদের প্রশ্ন।
তিনি বলেন, “আমরা ফাঁকি দিতে চাই না। আমরা যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করি, তার শেষ পয়সাটিও সততার সঙ্গে দিতে রাজি। কিন্তু মিটার ভাড়ার নামে সাধারণ মানুষের বুকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই অতিরিক্ত বোঝা আর বইতে পারছি না।”
খোলা চিঠিতে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জের মানুষ তাকে শুধু একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, নিজেদের অধিকারের কণ্ঠস্বর হিসেবেও দেখতে চান। জাতীয় সংসদে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সাধারণ মানুষের এই দাবিটি জোরালোভাবে তুলে ধরার জন্য তার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আবু বক্কর সিদ্দিক সুমনের ভাষায়, “বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জের প্রতিটি ঘরে হয়তো এই প্রশ্ন উচ্চস্বরে উচ্চারিত হয় না। কিন্তু মানুষের মনে নীরবে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায়—নিজের কেনা মিটারের জন্য আজীবন ভাড়া কেন?”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাধারণ মানুষের এই নীরব কষ্ট ও দীর্ঘদিনের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে এমপি এমরান আহমেদ চৌধুরী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং মিটার ভাড়া বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
খোলা চিঠির শেষাংশে আবু বক্কর সিদ্দিক সুমন বলেন, “প্রিয় এমপি মহোদয়, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জের লাখো মানুষ আজ আপনার দিকে তাকিয়ে আছে। আমাদের এই আকুতি কোনো ব্যক্তিগত দাবি নয়—এটি সাধারণ মানুষের দাবি। আপনিই আমাদের কণ্ঠস্বর হোন, আপনিই এই দাবি জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরুন। মিটার ভাড়ার বোঝা থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্ত করার উদ্যোগ নিন—এই একবুক আশা নিয়েই আপনার দিকে তাকিয়ে আছি।”
