নির্বাচনি সহিংসতার চ্যালেঞ্জে নির্বাচন, কঠোর হচ্ছে প্রশাসন

১৩তম জাতীয় সংসদের আসনে বসতে ভোটের মাঠে লড়াইয়ে নেমেছেন ১ হাজার ৮৪৩ জন প্রার্থী। দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে প্রার্থীরা কাকভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তারা। একই সঙ্গে চোখ রাখছেন প্রতিপক্ষের প্রচারেও। পাশাপাশি নির্বাচনি এলাকায় সভা-সমাবেশ করছেন নিয়মিত। আর এতে জনসমাগম ঘটাতে করছেন নিত্যনতুন পরিকল্পনা। ভোটারদের বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে হাটবাজার, মাঠ ও মসজিদ পর্যন্ত ছুটছেন প্রার্থীরা। নিজেদের প্রচারের পাশাপাশি দলীয় প্রতীককে তুলে ধরছেন তারা। অন্যদিকে গণভোট নিয়েও প্রচার চালানো হচ্ছে। সবকিছু ছাপিয়ে সহিংসতাকে নির্বাচনের প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলেছেন, এবারের নির্বাচন যে কোনো সহিংসতা থেকে মুক্ত রাখা উচিত। যদিও সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলতে স্থানীয় প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তারা কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা যেন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং একই দিনে ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে জাতীয় গণভোটও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনি মাঠে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন সজাগ দৃষ্টি রাখছে। এদিকে প্রচারে সারা দেশে বিক্ষিপ্ত কিছু সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। সম্প্রতি রাজধানীতেও এ চিত্র দেখা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রার্থী ও সমর্থকদের সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। কোথাও জরিমানা করার উদাহরণও দেখা গেছে। সবমিলিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনি এলাকাগুলো। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচার ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রার্থীরা এখন ভোটারদের মন জয়ে মরিয়া।

নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আগের তুলনায় নির্বাচনে ইতিবাচক একটি ধারণা এসেছে। পরিবেশও ইতিবাচক হয়েছে। উৎসবমুখর একটি পরিবেশ দেখা যাচ্ছে। যদিও এ নির্বাচনে মৌখিক সহিংসতা ও কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক সহিংসতা দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এগুলো আমাদের দেশের রাজনীতির পুরাতন সংস্কৃতির অংশ। রাতারাতি এ পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে যারা ৫ আগস্টের অঙ্গীকারের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ, তাদের উচিত অন্যায়ভাবে কাউকে আঘাত না করা। এটা না করলে তারা যে আগের শাসন আমল থেকে আলাদা এটা প্রমাণ করবে কীভাবে।

তাই এবারের নির্বাচনকে যে কোনো ধরনের সহিংসতা থেকে মুক্ত রাখা উচিত। আমি মনে করি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখন মূল চ্যালেঞ্জের বিষয় হচ্ছে সহিংসতা। এ ক্ষেত্রে সরকার, নির্বাচন কমিশন প্রার্থী ও সমর্থকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
-বিডিপ্রতিদিন

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন