সাংবাদিকতা অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, নিউইয়র্কভিত্তিক টাইম টেলিভিশনের ফাউন্ডার ও সিইও এবং বাংলা পত্রিকার সম্পাদক কিংবদন্তি সাংবাদিক আবু তাহেরের সম্মানে সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক আন্তরিক ও প্রাণবন্ত আড্ডা, স্মৃতিচারণ ও চা-চক্র। সাংবাদিকতা জীবনের দীর্ঘ পথচলা, পেশাগত সাফল্য এবং প্রবাসে বাংলা গণমাধ্যমকে সমৃদ্ধ করার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সিলেটের বিশিষ্ট সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে সিলেট জেলা পরিষদের কনফারেন্স হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম।
সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক জালালাবাদ সম্পাদক মুকতাবিস-উন-নূরের সঞ্চালনায়
চা চক্রকে ঘিরে আড্ডায় সিলেটের গত চার দশকের সোনালী সাংবাদিকতার নানা গল্প উঠে আসে। সিনিয়র সাংবাদিকরা তাদের বক্তব্যে সিলেট থেকে কিশোর বয়সে সাংবাদিকতা শুরু করা আবু তাহেরকে আশি নব্বই দশকে
ঢাকায় একজন পেশাদার সিনিয়র কূটনীতিক রিপোর্টার হিসেবে তাঁর কৃতিত্বপূর্ণ সাংবাদিকতার প্রশংসা করেন।
গত ৩২ বছর ধরে আমেরিকার বাংলা ও মূলধারার গণমাধ্যমে আবু তাহেরের প্রতিষ্ঠা লাভ এবং
এগিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ গল্প জানান সিনিয়র সাংবাদিকরা।
সিলেটের কিংবদন্তি সাংবাদিক মুকতাবিস- উন -নূর আবু তাহেরকে তাঁর সবচেয়ে কনিষ্ঠ
সহকর্মী সাংবাদিক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন , আবু তাহের আশির দশকে সিলেট প্রেসক্লাবের সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন। তখন তার বয়স ছিল ১৪/১৫ বছর। তিনি আবু তাহেরকে
একজন সৎ সাহসী, পেশাদার এবং নির্ভীক সাংবাদিক হিসেবে তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন , আবু তাহের আমেরিকায় চাইলে ব্যবসা বাণিজ্য করে মিলিওনার হতে পারতেন। কিন্তু তিনি একটা কমদামি ভাঙা চোরা গাড়ি দৌঁড়ান। এ অবস্থায়ও তিনি কিন্তু আমেরিকার রাস্ট্র ও প্রশাসনে অনেক সম্মানিত ব্যক্তি। এটাই
সাংবাদিকতার আসল পাওয়া ।
টাইম টিভির সিইও আবু তাহের
সিলেটের সিনিয়র সাংবাদিকদের সাথে তাঁর নানা স্মৃতি রোমন্থন করেন। তিনি বলেন, সিলেটীজম বলে একটা কথা আছে। এটা পজিটিভ বিষয়। সিলেট এগিয়ে গেলে বাংলাদেশ এগিয়ে যায়। তিনি সিলেটের সোনালি দিনের সমৃদ্ধ সাংবাদিকতার নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেন।
তিনি জানান, আমেরিকায় কমিউনিটির কথা চিন্তা করে টাইম টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হয়েছে। টাইম টেলিভিশন কমিউনিটির স্বার্থকে সমুন্নত রেখে এগিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি
অন্যান্য দেশি বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ
বিষয়কে প্রাধান্য দিচ্ছে।
এসময় বক্তারা সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের পরিবর্তিত বাস্তবতা এবং প্রবাসে বাংলা সাংবাদিকতার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
তারা সাংবাদিক আবু তাহেরের দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা ও প্রবাসে বাংলা গণমাধ্যমকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের প্রশংসা করেন।
বক্তারা বলেন, প্রবাসে থেকেও সাংবাদিক আবু তাহের বাংলা সাংবাদিকতা ও দেশের সাংবাদিকতার সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে টাইমস টিভি ও বাংলা পত্রিকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পরিবেশন করে আসছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দৈনিক সিলেটের ডাক এর প্রধান বার্তা সম্পাদক এনামুল হক জুবের, দৈনিক নয়া দিগন্তের সিলেট ব্যুরো চিফ আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম,
সিনিয়র সহসভাপতি এম এ হান্নান, সিলেট প্রেসক্লাবের সহসভাপতি ও দৈনিক শুভ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক মো. ফয়ছল আলম,
নিউ নেশনের সিলেট ব্যুরো চিফ শফিক আহমদ শফি, একাত্তর টিভির সিনিয়র রিপোর্টার সাকিব আহমদ মিঠু, দৈনিক একাত্তরের কথার স্টাফ রিপোর্টার লোকমান আহমদ, দৈনিক ভোরের ডাকের সিলেট প্রতিনিধি আব্দুল হান্নান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) অধ্যাপক ফখর উদ্দিন, অ্যাডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন, আবু তৈয়ব, আবু সাঈদ,
এবং জেলা পরিষদ প্রশাসকের একান্ত সচিব আমিন উদ্দিন আহমদ।
সাংবাদিক আবু তাহেরকে নিয়ে সিলেটে অনুষ্ঠান আয়োজনে সিলেটের গণমাধ্যম নেতৃবৃন্দ জেলা পরিষদ প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে সিলেটের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
-নিউজটি শুরু ও শেষ পরিবর্তন করে সমৃদ্ধ করে দেন।
