বাহুবলে প্রবাসীর মানবিকতা
নিভৃতে আর্তমানবতার সেবায় ইতালি প্রবাসী ফরিদ খান

কোনো প্রচার-প্রচারণা বা আনুষ্ঠানিক জাঁকজমক ছাড়াই নিভৃতে আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে যাচ্ছেন ইতালি প্রবাসী সমাজসেবক ফরিদ খান। দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জের অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ঘর নির্মাণ, জমি ক্রয়, বিয়ে-শাদি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা দিয়ে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের ভূগলি জামেয়া নুরুল কোরআন মাদ্রাসা (বালক শাখা) প্রাঙ্গণে সমাজসেবামূলক সংগঠন ‘আল্লামা হাফিজ নুরুদ্দীন ফাউন্ডেশন- এর উদ্যোগে শতাধিক অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে অনুদান বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ফরিদ খানের পক্ষে উপকারভোগীদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুফতি আবু সাঈদ মো. জুবাইর। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। অনুদান পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ৯০ বছর বয়সী নুরচান বিবি। নুর চান বলেন, এই বুড়া বয়সে ফরিদ খান ছাড়া কেউ আমরার খোঁজ নেয় না। আল্লাহ তারে ভালো রাখুক। তাঁর এই সরল কৃতজ্ঞতা উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুফতি আবু সাঈদ মো. জুবাইর বলেন, ফরিদ খানের মতো প্রবাসীদের এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। তিনি শুধু ব্যক্তিগত সহায়তা নয়, শিক্ষা ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে যে অবদান রাখছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা তার জন্য দোয়া করি-আল্লাহ যেন তার এই খেদমত কবুল করেন এবং তাকে আরও বেশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাওফিক দান করেন।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এদিন বিভিন্ন মাদ্রাসায় চার লক্ষাধিক টাকা অনুদান প্রদান করা হয়। এর মধ্যে জামেয়া লুৎফিয়া বরুনা মাদ্রাসায় ১ লাখ টাকা, জামেয়া হুসাইনিয়া মিরপুরে ৫০ হাজার টাকা, শ্রীমঙ্গল জামেয়া ইসলামিয়া মহিলা মাদ্রাসায় ২০ হাজার টাকাসহ মোট ১০টি মাদ্রাসায় সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়া ব্যক্তিগত পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ৪০ জন অসহায় ব্যক্তিকে মোট ৮০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ভূমিহীন মো. কাজল মিয়াকে জমি ক্রয়ের জন্য ৮০ হাজার টাকা এবং আব্দুল জলিল ও আব্দুল কাদিরকে ঘর নির্মাণের জন্য মোট ৭০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। এদিকে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে জামেয়া নুরুল কোরআন এতিমখানা ও জামে মসজিদের ৫ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। প্রবাসীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। ফরিদ খানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কানাডা, লন্ডন, সৌদি আরব, দুবাই ও কাতার প্রবাসী একাধিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা এতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছেন।

ফরিদ খান বলেন, প্রচার নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও মানুষের কল্যাণই আমাদের লক্ষ্য। সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমরা সবসময় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। স্থানীয়রা জানান, ২০০১ সালে মাত্র ৬ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসায় বর্তমানে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ করছে। ফরিদ খানের এই মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে এবং বিত্তবানদেরও আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন