নতুন চেয়ারম্যানের প্রথম কার্যদিবস শেয়ারবাজারে বড় উত্থান

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন নেতৃত্বের আগমনে বাজারে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিএসইসি’র নতুন চেয়ারম্যানের প্রথম কার্যদিবসে লেনদেনের শুরুতেই শেয়ারবাজারে বড় উত্থান প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

রোববার (৭ জুন) লেনদেনের শুরুতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। ফলে মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে লেনদেনে বেশ ভালো গতি দেখা যাচ্ছে।

প্রথম আধাঘণ্টার লেনদেনে ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক ৫০ পয়েন্টের ওপরে বেড়ে গেছে। দাম বাড়ার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ২৫০ এর বেশি প্রতিষ্ঠান। আর লেনদেন ৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে গেছে।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান। ফলে মূল্যসূচকও ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় রয়েছে। সেই সঙ্গে লেনদেনের গতিও ভালো দেখা যাচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব গ্রহণের পর শেয়ারবাজার সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, কারসাজি দমন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব প্রথম দিনেই বাজারে পড়েছে।

একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলেন, গত কয়েক মাস ধরে বাজারে ধারাবাহিক দরপতন ও লেনদেনে স্থবিরতার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা ছিল। নতুন নেতৃত্বের অধীনে কমিশন বাজার উন্নয়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে, এমন প্রত্যাশায় অনেক বিনিয়োগকারী নতুন করে শেয়ার কেনায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

ডিএসই’র এক সদস্য বলেন, শুধু সূচকের উত্থানই নয়, বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য কমিশনকে দ্রুত নীতিগত সংস্কার করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব বাজারে কিছু ভালো কোম্পানির আইপিও আনতে হবে। সেই সঙ্গে দুর্বল কোম্পানি যেন তালিকাভুক্ত হতে না পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, রোববার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের বড় উত্থান হয়। লেনদেনের প্রথম ঘণ্টাজুড়ে সেই অব্যাহত থাকে। তবে এরপর কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমে গেছে। এতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাও কমে গেছে।

অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় একপর্যায়ে ডিএসই’র প্রধান সূচক ৬০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। আর দাম বাড়ার তালিকায় নাম লেখায় প্রায় ৩০০ প্রতিষ্ঠান। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১০টা ৪৪ মিনিটে ডিএসইতে ২২৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮৫টির। আর ৬৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এতে ডিএসই’র প্রধান সূচক বেড়েছে ৫০ পয়েন্ট। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ১৯ পয়েন্ট বেড়েছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়েছে। এ সময় পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮১ পয়েন্ট বেড়েছে। লেনদেন হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেওয়া ৮৫ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৫৫টির, কমেছে ২১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৯টির।
-জাগোনিউজ

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন