- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

অবৈধ বালু-মাটিবাহী ট্রাক্টরের দাপটে মাধবপুরের গ্রামীণ সড়ক বেহাল

হবিগঞ্জের মাধবপুরে কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য আমদানি করা ট্রাক্টরে অনুমোদন ছাড়াই বডি সংযোজন করে বালু, মাটি ও বিভিন্ন মালামাল পরিবহনের অভিযোগ উঠেছে। এসব ট্রাক্টরের অবাধ চলাচলে উপজেলার গ্রামীণ সড়ক, কালভার্ট ও বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে একদিকে জনদুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন ব্যয়ও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষিকাজের উপযোগী ট্রাক্টরের সঙ্গে অবৈধভাবে বডি সংযোজন করে তা বালু-মাটি পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে সরু ও ইটসলিং সড়কে ভারী এসব ট্রাক্টর চলাচলের কারণে নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে।

শাহজাহানপুর ইউনিয়নের এক্তিয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান মিয়া জানান, এক্তিয়ারপুর রেললাইন থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট সড়ক চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইটসলিং করা হয়। এতে ব্যয় হয় প্রায় ১২ লাখ টাকা। কিন্তু নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই বালু-মাটিবাহী ট্রাক্টরের নিয়মিত চলাচলে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তেলিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তেলিয়াপাড়া মসজিদের কাছ থেকে ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়ক হয়ে চৌধুরী বাড়ি পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয়ে ইটসলিং সড়ক নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের ছয় মাস না যেতেই ট্রাক্টরের চলাচলে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে এ সড়ক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, শুধু তেলিয়াপাড়ার একটি সড়ক নয়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে। সরকারি অর্থে নির্মিত সড়কগুলো অবৈধভাবে বালু-মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক্টরের কারণে দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। এতে সরকারের উন্নয়ন ব্যয় যেমন অপচয় হচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষও কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, ট্রাক্টরের অতিরিক্ত ওজনের কারণে অনেক স্থানে কালভার্ট, সেতু ও অন্যান্য গ্রামীণ অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তাদের দাবি, অনুমোদনহীনভাবে বডি সংযোজন করে মালামাল পরিবহনকারী ট্রাক্টরের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তারা।

মাধবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নূর মামুন বলেন, “জনগণের চলাচলের সুবিধার জন্য রাস্তাগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু বালু-মাটিবাহী অবৈধ ট্রাক্টরের কারণে রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে জনগণ সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, এসব ট্রাক্টরের কোনো নিবন্ধন নেই। এগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদি হাসান বলেন, এসব ট্রাক্টর অবৈধ। সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন