- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

অবৈধ বালু উত্তোলনে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, ঝুঁকিতে দুই রাবার ড্যাম

সরকারি ইজারা ছাড়াই হবিগঞ্জের মাধবপুরের সোনাই নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে কৃষি সেচের জন্য প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বহরা ও অলিপুর এলাকার দুটি রাবার ড্যাম ঝুঁকিতে পড়েছে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে মূল্যবান সিলিকা বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সোনাই নদীর দুই তীরে বোরহানপুর, ভবানীপুর, দুর্লভপুর, আফজলপুর, বহরা, মরারচর, চৌমুহনী কোয়ারির কাশিমপুর, অলিপুর, আলাবক্সপুর, মনোহরপুর, মঙ্গলপুর, গাজীপুর ও আশ্রবপুর এলাকায় বিপুল পরিমাণ বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এসব বালু ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন অভিযানে যাওয়ার খবর আগেই পৌঁছে যায় বালু উত্তোলনকারীদের কাছে। পরে ড্রেজার মেশিন ও পরিবহনের যানবাহন সরিয়ে ফেলা হয়।

গত ১ সেপ্টেম্বর উপজেলা প্রশাসন সোনাই নদীতে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি ড্রেজার মেশিন ও পাইপ ধ্বংস করে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানের পরই আবার নদীর দুই তীরে মজুত বালু বিক্রি শুরু হয়।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, “সুযোগ পেলেই চোরাই বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করি। এসিল্যান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদসহ লোকবল কম থাকায় পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।”

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ বলেন, “সিলিকা বালুর বিষয়ে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। বিষয়টি খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক কাজী জিয়াউল বাসেত বলেন, “আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট যাবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতায় অবৈধ সিলিকা বালুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সোনাই নদীর খনিজ সম্পদ রক্ষা এবং দুই রাবার ড্যামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন