মাটি ও মানুষের প্রয়োজনে যখন সাধারণ জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন সেই আন্দোলন হয়ে ওঠে গণমানুষের প্রাণের ভাষা।
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার ৬নং পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের সাধারণ মানুষ ২৫ এপ্রিল ২০২৬ সেই ঐক্যবদ্ধ শক্তির পরিচয় দিয়েছে।
দীর্ঘদিনের অবহেলিত রাস্তা নির্মাণ এবং কুশিয়ারা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে জনপদ রক্ষার দাবিতে আয়োজিত এই মানববন্ধন যেন এলাকাবাসীর পুঞ্জীভূত কষ্টের এক জীবন্ত বহিঃপ্রকাশ।
এই ন্যায়সংগত দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে মানববন্ধনে উপস্থিত হয়েছিলেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ৬নং পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব আজিজুর রহমান। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সংহতি প্রকাশ করেন সিরাজপুর কালিরগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সমাজসেবক, সাংবাদিক আশরাফুল আহমদ।
এই সময় প্রধান বক্তা ও অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরেন সাংবাদিক মো. তোফেল আহমেদ। তাঁদের উপস্থিতি ও জোরালো বক্তব্য এলাকাবাসীর মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
কান্দিগাঁও গ্রামের মানুষের দুঃখের যেন শেষ নেই। একদিকে একটি টেকসই রাস্তার অভাবে অসুস্থ রোগী ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর করাল গ্রাসে প্রতি বছর বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। গ্রামের প্রবীণ মুরুব্বিদের অভিজ্ঞ চোখ আর তরুণ প্রজন্মের লড়াকু চেতনার মিলনমেলা ছিল এই মানববন্ধন। সভায় উপস্থিত বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, “রাস্তা ও নদী ভাঙন রোধ আমাদের বিলাসিতা নয়, এটি বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার।”
মানববন্ধনের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক ছিল সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। গ্রামের সাদা মনের প্রবীণ মুরব্বিরা যেমন লাঠি ভর দিয়ে দাঁড়িয়েছেন, তেমনি তরুণ সমাজ ও যুব সমাজের প্রতিনিধিরা রাজপথ কাঁপানো স্লোগানে মুখরিত করেছেন পরিবেশ। এই যূথবদ্ধতা প্রমাণ করে যে, নিজের মাটিকে রক্ষার লড়াইয়ে কান্দিগাঁওবাসী আজ ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তায় আবদ্ধ।
একটি সফল মানববন্ধন কেবল কিছু মানুষের জমায়েত নয়, বরং এটি কর্তৃপক্ষের প্রতি একটি চরম আল্টিমেটাম। সাংবাদিক মো. তোফেল আহমদ এবং আশরাফুল আহমদ সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি এই দাবিকে আরও জোরালো করেছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, এই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ঢেউ প্রশাসনের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাবে এবং অতি দ্রুত রাস্তা নির্মাণ ও স্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধের মাধ্যমে কান্দিগাঁও গ্রামকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা হবে।