অদ্ভুত উপায়ে যেভাবে কথা বলে প্রাণীরা

মানুষ যেমন কথা, ইশারা বা শারীরিক ভাষার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করে, প্রাণীরাও তেমনি টিকে থাকা, খাবার খোঁজা বা সঙ্গী আকর্ষণের জন্য ব্যবহার করে অবিশ্বাস্য সব কৌশল। মৌমাছির নাচ থেকে শুরু করে গণ্ডারের মল—যোগাযোগের এই বৈচিত্র্যময় জগত বিজ্ঞানীদের বরাবরই অবাক করেছে।

নাচে যখন ঠিকানার খোঁজে
প্রাণিজগতে নাচের মাধ্যমে যোগাযোগের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো মৌমাছি। খাবারের উৎস কোথায় এবং কত দূরে, তা অন্য সঙ্গীদের জানাতে মৌচাকের ভেতর বিশেষ এক ধরনের নাচ দেয় তারা।এ ছাড়া ময়ূর, মাকড়সা বা ক্লার্কস গ্রিব পাখিও সঙ্গী খুঁজে নিতে চমৎকার সব নাচের মুদ্রা প্রদর্শন করে।

রঙ, আলো ও অদৃশ্য সংকেত
স্কুইড বা কাটলফিশের মতো জলজ প্রাণীরা মুহূর্তে শরীরের রঙ বদলে ভয় বা আকর্ষণ প্রকাশ করতে পারে। অন্যদিকে, ম্যান্টিস শ্রিম্প শরীরের বিশেষ অংশ থেকে এমন এক ধরনের পোলারাইজড আলো নির্গত করে, যা অন্য কোনো প্রাণী দেখতে পায় না; এটি তাদের এক ধরনের ‘গোপন কোড’।

শব্দ যখন মানুষের কানে ধরা পড়ে না
হাতিরা যোগাযোগের জন্য ‘ইনফ্রাসাউন্ড’ বা অতি নিম্ন কম্পাঙ্কের শব্দ ব্যবহার করে, যা ১৭৫ মাইল দূর থেকেও অন্য হাতি শুনতে পায়।

উল্টোদিকে, টারসিয়ার নামক ক্ষুদ্র প্রাণী ‘আলট্রাসাউন্ড’ ব্যবহার করে, যা এতটাই তীক্ষ্ণ যে মানুষের কান তা শনাক্ত করতে পারে না। এটি তাদের শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে সাহায্য করে।

মাটির নিচে মাথার ঠোকা ও বিদ্যুতের খেলা
আফ্রিকান ডেমন মোল র‍্যাট সুড়ঙ্গের ছাদে মাথা ঠুকে কম্পন তৈরি করে অনেক দূর পর্যন্ত সংকেত পাঠাতে পারে। আবার ব্ল্যাক ঘোস্ট নাইফফিশের মতো কিছু মাছ নিজেদের চারপাশে বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি করে অন্য মাছের সাথে তথ্য আদান-প্রদান করে।

অদ্ভুত মাধ্যম: মল ও হানিডিউ
যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে গণ্ডার ব্যবহার করে তাদের মল। একটি নির্দিষ্ট স্থানে মলত্যাগের মাধ্যমে তারা অন্য গণ্ডারদের নিজের এলাকা, স্বাস্থ্য ও প্রজননের অবস্থা জানিয়ে দেয়। অন্যদিকে, মাদাগাস্কারের টিকটিকি ও ট্রিহপার পতঙ্গের মধ্যে মাথা নাড়ানো ও মিষ্টি মল (হানিডিউ) আদান-প্রদান যেন এক অদ্ভুত লেনদেনের ভাষা।

জটিল ভাষা ও সুরের মায়া
প্রেইরি ডগদের ডাক এতটাই উন্নত যে তারা ‘মানুষ আসছে’ বলার পাশাপাশি ওই মানুষটির উচ্চতা বা পোশাকের রঙ নিয়েও আলাদা সংকেত দিতে পারে। আবার ফেয়ারি রেন বা অ্যান্টবার্ডের মতো পাখিরা গানের মাধ্যমে সাহসিকতা প্রদর্শন কিংবা সঙ্গীর বিশ্বস্ততা পরীক্ষা করে।এমনকি কিছু শুঁয়োপোকা পিঁপড়াদের রানির অনুকরণে গান গেয়ে তাদের বোকা বানিয়ে রাজকীয় সেবা আদায় করে নেয়।

প্রকৃতির এই বিশাল ক্যানভাসে প্রতিটি প্রাণীরই রয়েছে নিজস্ব এক অভিধান। আমরা যা শুনি বা দেখি, তার চেয়েও গভীর কোনো অর্থ লুকিয়ে থাকে তাদের প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি কিংবা শব্দের পেছনে। প্রাণীদের এই ভাষা বুঝতে পারা মানেই প্রকৃতির রহস্যের আরও গভীরে প্রবেশ করা। সূত্র : ন্যাচারাল হ্যাবিটাট এডভেঞ্চারস

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন