- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

অনবরত বন্ধুত্বের পরিচয় দিয়েই চলেছে চীন: জামায়াত আমির

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চীন আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেনি। অনেকে বাংলাদেশকে কিছু না দিয়েই যখন-তখন হস্তক্ষেপ করে, কিন্তু চীন তা করে না। চীন অনবরত বন্ধুত্বের পরিচয় দিয়েই চলেছে। আরো বেশি উদ্যোগী হয়ে তারা বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করবে বলে আশা করি।

তিনি মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজধানীর মিরপুরে আদর্শ স্কুল মাঠে চীনের সহায়তায় অসহায় মানুষের মধ্যে ফুডপ্যাক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এ সময় চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ঢাকা-১৫ নির্বাচনি এলাকার দরিদ্র সহস্রাধিক মানুষের মধ্যে এই ফুডপ্যাক বিতরণ করা হয়।

জামায়াত আমির বলেন, ‘এটা স্বল্প আয়ের প্রিয় ভাই-বোনদের জন্য সামান্য উপহার। এজন্য চীনা রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানাই। এর আগে গত বছর তিনি গাজীপুরে দিয়েছেন। এবার ঢাকা-১৫ আসনের মানুষের জন্য এগিয়ে এসেছেন। এই উপহার তাদের ঈদের দিনে একটু খুশির ঝিলিক এনে দিলে আমাদের জন্য বড় পাওয়া হবে। আমি আপনাদের কল্যাণের জন্য চিন্তা করি। সরকার আপনাদের জন্য যা দেবে, তা হুবহু পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব। এর সঙ্গে আমারা নিজেরাও কিছু করার চেষ্টা করব।’

তিনি বলেন, ‘চীনের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘ ৫০ বছরের। চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম আন্তরিক পার্টনার। উন্নয়নের অংশীদার। তাদের অংশীদারিত্বে বাংলাদেশে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র পুরোটাই চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশের জন্য উপহার। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে এই বন্ধুত্বের নিদর্শনটা হাইজ্যাক হয়ে গিয়েছিল। তারা এই হলটার নাম বাপের নামে করেছিল। একটা দেশের উপহারের নাম-নিশানাই উঠিয়ে দেওয়া হয়। এটা চরম অকৃতজ্ঞতা। সারা বাংলাদেশকেই তারা এভাবে দখল করে নিয়েছিল।’

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা সেটি দখলমুক্ত করেছেন। এ জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি, একই সঙ্গে যাদের ত্যাগ ও কুরবানির মাধ্যমে দখলমুক্ত হয়েছে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কান্না। আমরা এই কান্নার অবসান চাই। কিন্তু অতীতে এটা কেন বাস্তবায়ন হয়নি, তা সবাই বোঝে। আমরা সেই ধারাবাহিকতা আর বহন করতে চাই না। আমরা এই অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে জানিয়ে দিতে চাই, আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক, আমাদের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি আছে। আমরা এই প্রকল্পকে শুধু সমর্থন নয়, তা বাস্তবায়নে কিছু করার থাকলে তাও করব। কারণ আমরা দেশ ও মানুষের কল্যাণ চাই।’

তিনি বলেন, ‘চীন শুধু এ ক্ষেত্রে নয়, ইতোমধ্যে তারা এক হাজার বেডের দুটি হাসপাতাল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হল নির্মাণের বাজেট ঘোষণা করেছে। এগুলোই তো বন্ধুত্বের নিদর্শন। তারা কথায় নয়, দুধ দিয়ে চিড়া ভিজিয়ে দেখিয়েছেন। আমরা আশা করব, অন্যান্য বন্ধুরাষ্ট্র এভাবে এগিয়ে আসবে। তাদের কর্মকাণ্ডই প্রকাশ করবে কে আমাদের সত্যিকার বন্ধু।

আমরা সারা দুনিয়ার সভ্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চাই, কিন্তু ঘাড়ের ওপর কারো আধিপত্য মেনে নেব না। অতীতের বোঝা ফেলে দিয়েছি, সেই বোঝা জাতি আর ঘাড়ে ওঠাবে না। আমাদের যুবসমাজ একদমই সহ্য করবে না। তারা বুক উঁচু করে বিশ্বের বুকে বাঁচতে চায়, বলতে চায় যে, আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশ।’

তিনি আদর্শ স্কুলের কোয়ালিটি শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার উন্নয়নে এগিয়ে আসার জন্য চীনা রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা, উন্নয়নে আমরা একসঙ্গে কাজ করব ইনশাআল্লাহ। তাহলে এই অঞ্চলের অস্থিরতা দূর হবে।’

তিনি বলেন, ‘ন্যায়, কল্যাণ, ভ্রাতৃত্ব, বন্ধুত্ব, উন্নয়ন ও শৃঙ্খলার পথে, স্থিতিশীলতার পথে, বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর পথে আমাদের যাত্রা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।’

তিনি ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়ে এগিয়ে আসা এবং মূল্যবান ভোটে নির্বাচিত করার জন্য নিজের নির্বাচনি এলাকার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ সময় চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘আমি এখানে আসতে পেরে খুব খুশি। আসন্ন ঈদুল ফিতরে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। ঈদুল ফিতর হলো ভালোবাসা, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের উৎসব। ঈদের এই খুশিতে সহায়তা করতে আমরা কিছু উপহার নিয়ে এসেছি। আশা করি এই উপহার মিরপুরের এসব মানুষের ঈদের আনন্দ আরো বাড়িয়ে দেবে ‘

চীন সব সময় এ ধরনের সহায়তামূলক কাজ করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় জামায়াতে ইসলামীর মাধ্যমে এসব উপহার দেওয়া হচ্ছে। এ সময় তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত এবং বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসাসহ মহানগর ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন