সামাজিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এলাকার উন্নয়নে সহযোগিতা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে চলার কথা জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী, দিরাই প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী আব্দুর রশিদ। আকিলশাহ বাজারে আয়োজিত একটি মিনি নাইট ফুটবল টুর্নামেন্টে পুরস্কার দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তিনি বলেছেন, এলাকার মানুষের সম্মানের কথা বিবেচনা করেই তিনি বিতর্কিত ওই আয়োজন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তবে তাঁকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক লেখালেখি করায় যাঁদের ভূমিকা রয়েছে, তাঁদের প্রতিও কোনো ক্ষোভ নেই তাঁর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকিলশাহ বাজারে আয়োজিত মিনি নাইট ফুটবল টুর্নামেন্টে রাতভর খেলা চলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মতপার্থক্য দেখা দেয়। একপর্যায়ে স্থানীয় অনেকেই খেলা বন্ধের আহ্বান জানান। অন্যদিকে, আয়োজকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, আব্দুর রশিদ পুরস্কার দেওয়ার কথা বললেও পরে তা দেননি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের লেখালেখি চলছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে আব্দুর রশিদের অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দাবি, পুরো ঘটনা যাচাই না করে কাউকে নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো উচিত নয়। একটি নির্দিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ড ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টাকে উপেক্ষা করাও সমীচীন নয় বলে মনে করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে আব্দুর রশিদ বলেন- আমি আগামীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করি কিংবা না করি, এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি এবং ভবিষ্যতেও করব। স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, রাস্তাঘাটসহ এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে আমি আমার সাধ্যমতো শরিক থাকি। গরিব-অসহায় মানুষের বিপদে-আপদেও সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। বিভিন্ন খেলাধুলা ও সামাজিক অনুষ্ঠানেও সহযোগিতা করে আসছি।
মিনি নাইট ফুটবল টুর্নামেন্ট নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের বিষয়ে তিনি বলেন- যে খেলাটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটিকে কেন্দ্র করে এলাকার মানুষের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। আমি চাই না, একটি খেলাকে কেন্দ্র করে এলাকার মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হোক কিংবা পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতি ঘটুক। তাই এলাকার মানুষের সম্মানের কথা বিবেচনা করে আমি ওই খেলা থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে সরে আসি।
নিজেকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান লেখালেখি প্রসঙ্গে আব্দুর রশিদ আরও বলেন- যাঁরা আমাকে নিয়ে অযথা লেখালেখি করছেন, তাঁরাও আমার এলাকার ভাই-ভাতিজা। তাঁরা আমারই আপনজন। তাঁদের প্রতি আমার কোনো কষ্ট নেই, কোনো অভিযোগও নেই। হয়তো তাঁরা আমাকে ভুল বুঝেছেন। আমি বিশ্বাস করি, একদিন তাঁরা নিজেরাই প্রকৃত বিষয়টি বুঝতে পারবেন।তাঁর এই বক্তব্যে ব্যক্তিগত ক্ষোভের চেয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার প্রত্যয়ই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সম্ভাব্য নির্বাচনী অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের পাশে থাকার যে অঙ্গীকারের কথা তিনি বলেছেন, সেটিই এখন তাঁর বক্তব্যের মূল সুর।
স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার আয়োজন তরুণদের মধ্যে সৌহার্দ্য, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে রাতভর খেলা আয়োজন নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তি থাকলে আয়োজকদের উচিত তাঁদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা। একইভাবে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরাও জরুরি।
আব্দুর রশিদকে ঘিরে চলমান আলোচনা-সমালোচনার অবসান ঘটাতে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকে।
শেষ পর্যন্ত একটি খেলা কিংবা একটি বিতর্ক যেন দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি না করে- এমন প্রত্যাশাই এলাকাবাসীর। কারণ, এলাকার উন্নয়ন, মানুষের কল্যাণ ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় ব্যক্তিগত মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হয়।