অস্তিত্ব সংকটের মুখে লাখাইর সুতাং নদী

এক সময়ের খরস্রোতা নদী যেখানে চলতো বড় বড় নৌকা, ধরা পড়তো প্রচুর মাছ, আজ সেই নদীর বুকে করা হচ্ছে বোরোধান চাষ।

খোজ নিয়ে জানা যায় সুতাং নদী হবিগঞ্জ জেলার বৃহত্তর দীর্ঘ নদী। এক সময় এর নাম ছিল খরস্রোতা নদী। পরবর্তীতে সুতাং নদী হিসেবে পরিচিত লাভ করে।ওই নদীটি ত্রিপুরা রাজ্যের আসাম প্রদেশের সীমানা থেকে উৎপত্তি। হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকা থেকে শুরু হয়ে শায়েস্তাগঞ্জ ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম পার্শ্ব হয়ে লাখাই উপজেলার পূর্ব দিক হয়ে বুল্লা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে লাখাই ইউনিয়নের উত্তর পার্শ্ব হয়ে ধলেশ্বরী নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। এক সময় উপজেলার নিম্নাঞ্চল এলাকায় ওই নদী থেকে পাওয়ার পাম্প মেশিন দ্বারা সেচের মাধ্যমে বোরোধান চাষাবাদ করা হতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে সুতাং নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেচের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। অবিশ্বাস্য মনে হলেও লাখাই উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এখন বোরোধান চাষাবাদ করছে স্থানীয় বাসিন্দারা। এ দৃশ্য শুধু সুতাং নদীর সীমাবদ্ধ নয়। উপজেলর এক সময়ের প্রাণ প্রবাহ সুতাং নদী, সাকাতি নদী সহ একাধিক নদী নাব্যতা হারিয়ে চর পরেছে। উজানের পাহাড়ি ঢলে আসা পলিমাটিতে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে নদীর বুকে ধান চাষ করছেন কৃষক।

পরিবেশবাদীদের মতে জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও নিয়মিত খননের অভাবেই নদী গুলির করুণ অবস্থার জন্য দায়ী। নদী গুলিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পরিকল্পিত খননের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সুতাং ও সাকাতি নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা জানান,বর্ষা মৌসুমে নদী গুলি কিছুটা প্রাণ ফিরে ফেলেও শুষ্ক মৌসুমে জেগে উঠা চরে ধান চাষই এখন প্রধান চিত্র। এক সময়ের গভীর নদী আজ অনেক স্থানে প্রায় শুকিয়ে যায়। যেখানে এক সময় পারাপারে নৌকার প্রয়োজন হতো, এখন মানুষ হেটেই পাড় হচ্ছেন নদী।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক সময় নদীতে সারাবছর পানি থাকতো বড় বড় নৌকা চলতো কখনও নদী শুকাতে দেখিনি। এখন নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় মানুষ এখন নদীতে ধান চাষ করছেন। এতে করে সেচের জন্য পানির সংকট দেখা দিয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, যে নদী আমাদের আশীর্বাদ ছিল এখন তা দুঃখের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ খোয়াই ওটার কিপার ও বাপা সুতাং নদী খননের দাবী জানিয়ে আসলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

এ বিষয়ে জেলার খোয়াই ওটার কিপার ও বাপার সাধারণত সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন হবিগঞ্জের খোয়াই নদী, সতাং নদী, সাকাতি নদী সহ বিভিন্ন নদ নদী খনন ও পরিবেশ রক্ষার জন্য অনেকদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন সুতাং নদী খননের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করেছি সময় হলেই খনন কাজ শুরু করা হবে। তিনি আরও বলেন প্রধান মন্ত্রী নদী ও খাল খননের জন্য ইতিমধ্যে কর্মসূচি গ্রহন করেছেন ক্রমান্বয়ে তা বাস্তবায়ন করা হবে ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন