অটোগ্যাসের দাম বাড়ল ১৭ টাকা, মৌলভীবাজারে ভাড়া বাড়লো ডাবল!

ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেও মৌলভীবাজার শহরে টমটম (ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের) ভাড়া দ্বিগুণ করা হয়েছে। গত ১ এপ্রিল লিটারপ্রতি গ্যাসের দাম ১৭.৯৪ টাকা বাড়লেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাড়া একলাফে ৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। একে ‘গ্যাসের দামের আড়ালে জনগণের পকেট কাটা’ বলে অভিহিত করছেন ভুক্তভোগীরা।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সাথে এক সমন্বয় সভায় এই নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। সভায় গ্যাসের দাম বাড়ার বিষয়টি সামনে এনে ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হলে প্রশাসন তাতে অনুমোদন দেয়।

প্রশাসন নির্ধারিত রুটভিত্তিক নতুন ভাড়া তালিকা অনুযায়ী ঢাকা বাস স্ট্যান্ড–কুসুমবাগ ১০ টাকা, বেড়িরপাড়–চৌমুহনা ১০ টাকা, বেড়িরপাড়–কলেজ পয়েন্ট ১০ টাকা, চৌমুহনা–কলেজ পয়েন্ট ৫ টাকা, কুসুমবাগ–চৌমুহনা ১০ টাকা, চৌমুহনা–ছড়ারপাড় ১০ টাকা, কলেজ গেইট–ওয়াপদা পয়েন্ট ১০ টাকা ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সভা সূত্রে জানা গেছে, নগর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এখন থেকে প্রতিটি টমটমে সর্বোচ্চ ৬ জন যাত্রী বহনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা আগে ৮ জন পর্যন্ত ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একজন টমটম চালক প্রতিদিন গড়ে ৩০০ টাকার গ্যাস ব্যবহার করেন। লিটারপ্রতি ১৭.৯৪ টাকা দাম বাড়ায় একজন চালকের দৈনিক অতিরিক্ত খরচ বেড়েছে সর্বোচ্চ ৬০-৭০ টাকা। রিসার্ভ ট্রিপ ছাড়াও সাধারণত একজন চালক দিনে গড়ে ২৫-৩০ ট্রিপ দিয়ে থাকেন। প্রতি ট্রিপে ৬ জন করে যাত্রী ধরলে সারাদিনে তিনি ১৫০ জনেরও বেশি যাত্রী পরিবহন করেন।

কিন্তু ভাড়া ৫ টাকার জায়গায় ১০ টাকা (ডাবল) করায় একজন চালক প্রতিদিন যাত্রীপ্রতি অতিরিক্ত ৫ টাকা আয় করবেন। অর্থাৎ, ৬০-৭০ টাকা খরচ বাড়লেও সাধারণ মানুষের পকেট থেকে চালকরা পাবে অতিরিক্ত ৭০০ টাকারও বেশি, যার বৈধতা দিল মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন।

মৌলভীবাজার জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুল হক সেলিম বলেন, এটা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি, যা আজকে পূরণ হলো। তাদেরও পরিবার, পরিজন আছে, মালিক, গ্যাস বিল আছে, এতে তাদের হয়না। এজন্য ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে চৌমুহনী টু কলেজ/কোর্ট পর্যন্ত ভাড়া ৫ টাকায়ই আছে।

এদিকে এ বিষয়ে জানতে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল -এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

শহরের এক নিয়মিত যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গ্যাসের দাম ১৮ টাকা বাড়লে ভাড়ায় সর্বোচ্চ ১ বা ২ টাকা প্রভাব পড়ার কথা, অথবা না বাড়ালেও চলে। কিন্তু সরাসরি ভাড়া ডাবল করে দেওয়া হলো। প্রশাসন সাধারণ মানুষের কথা না ভেবে কেবল সিন্ডিকেটের সুবিধা দেখল।”

ছাত্র প্রতিনিধি কাজী মঞ্জুর বলেন, শহরের ভাড়া নির্ধারণ সংক্রান্ত সভায় আমি সব সড়কে পূর্বের ভাড়া বহাল রাখার দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনার পর যে নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে, তা সাধারণ জনগণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক এবং অগ্রহণযোগ্য। এই সভায় শ্রমিক ইউনিয়নের অতিরিক্ত উপস্থিতি এবং সাংবাদিকদের অনুপস্থিতি স্বচ্ছতার অভাবকে স্পষ্ট করে। অটোরিকশা সিন্ডিকেটের সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার কারণেই অনিয়মের বিষয়টি সভায় গুরুত্ব পায়নি। এই একতরফা ভাড়া অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা না করলে আমরা বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।

তবে সচেতন নাগরিক মহলের মতে, গ্যাসের দাম বাড়ার অজুহাতে ভাড়ার এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি মোটেও যৌক্তিক নয়। এটি সাধারণ নিম্নবিত্ত মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে। শ্রমিক ইউনিয়নের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে, তারা অবিলম্বে এই ‘অযৌক্তিক’ ভাড়া পুনর্বিবেচনা করে ন্যায়সংগত ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন