
বাংলা চলচ্চিত্রের এক সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই । গত ১২ই জানুয়ারি লন্ডনে মারা গেছেন তিনি। তার মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ভাগিনা জাভেদ মাহমুদ তিনি জানান, লন্ডনে অনেকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন।
১৯৬৮ সালে মিস ক্যালকাটা হওয়া জয়শ্রী বাংলাদেশের সিনেমায় অভিনয় করেই জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। প্রিয়া ফিল্মসের নিবেদনে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মূল গল্পে সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ সিনেমায় তিনি প্রথম অভিনয় করেন। তারপর বাংলাদেশের বিখ্যাত পরিচালক আলমগীর কবির এর – বেশ কয়েকটি ছবিতে তিনি নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। সিনেমাগুলে হচ্ছে- সীমানা পেরিয়ে, রুপালী সৈকতে, সূর্য কন্যা ,মোহনা ।
এক সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা জয়শ্রী কবির দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে বসবাস করতেন। সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতাও করেছেন। আজ থেকে প্রায় এক দশক আগে জয়শ্রী কবির ঢাকায় এসেছিলেন। এরপর আর তাকে এই দেশে দেখা যায়নি। তিনি তার একমাত্র সন্তান লেনিনকে নিয়ে বেশ ভালোই ছিলেন।
কয়েক বছর আগে নির্মাতা, অভিনেতা তৌকীর আহমেদের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে দেখা হয় জয়শ্রী কবিরের। সেখানে তিনি কথা প্রসঙ্গে বলেছিলেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র পরিবারকে তিনি দারুণ মিস করেন। তবে সবচেয়ে বেশি মিস করেন তিনি প্রয়াত নায়ক বুলবুল আহমেদকে। কারণ তার সঙ্গেই তিনি সবচেয়ে বেশি সিনেমাতে অভিনয় করেছেন। জয়শ্রী ও বুলবুল আহমেদ জুটির সবচেয়ে জনপ্রিয় সিনেমা ‘সীমানা পেরিয়ে’। এই সিনেমার ‘বিমুর্ত এই রাত্রি আমার মৌনতারই সুতোয় বুনা একটি রঙ্গিন চাদর’ গানটি এখনো অনেক জনপ্রিয়।
যে কারণে ঢাকা ছাড়েন জয়শ্রী কবির
১৯৭৫ সালে আলমগীর কবির তাকে বিয়ে করলেও সেই বিয়ে খুব বেশি দিন টেকেনি। প্রায় তিন বছরে সংসারে শুরু হয় অশান্তি। অবশেষে বিবাহবিচ্ছেদের পথে হাঁটেন তিনি। বিচ্ছেদের পর প্রথমে পাড়ি দেন কলকাতায়। সেখান থেকে পরে চলে যান লন্ডনে।
কলকাতার জীবন
১৯৫২ সালে কলকাতায় জয়শ্রীর জন্ম। সেখানেই তাঁর বেড়ে ওঠা। সাউথ পয়েন্ট স্কুলে লেখাপড়া করেন তিনি। তাঁর পারিবারিক নাম জয়শ্রী রায়। ১৯৬৮ সালে তিনি মিস ক্যালকাটা উপাধি লাভ করেন। এরপর বিশ্বনন্দিত চলচ্চিত্রকার সত্যজিত রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় কাজ শুরু করেন। ১৯৭৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অসাধারণ’ ছবিতে উত্তম কুমারের বিপরীতেও কাজ করেছিলেন জয়শ্রী।
উল্লেখযোগ্য ছবি
কলকাতার ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ (১৯৭০), ঢাকার ‘সূর্যকন্যা’ (১৯৭৫), কলকাতার ‘অসাধারণ’ (১৯৭৬), ঢাকার ‘সীমানা পেরিয়ে’ (১৯৭৭), ‘রূপালী সৈকতে’ (১৯৭৯), ‘দেনা পাওনা’ (১৯৮১), ‘মোহনা’ (১৯৮২), ‘নালিশ’ (১৯৮২), ‘পুরস্কার’ (১৯৮৩) ও ‘শহর থেকে দূরে’ (১৯৮৪)।