হত্যাকারী হিসেবে হিশামকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে — নাহিদা বৃষ্টির হত্যার দায়েও।জামিলের দেশের বাড়ি জামালপুর। পরিবারটি ঢাকায় থাকে।বৃষ্টি নোয়াখালীতে লেখা পড়া করলেও,তার পরিবার ঢাকার মীরপুরে থাকেন।
যে আশঙ্কা দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছিল, শেষমেশ সেটাই সত্য হলো। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
শুক্রবার হাওয়ার্ড ফ্রাংকল্যান্ড সেতুতে জামিল লিমনের লাশ পাওয়া গেছে। নাহিদা বৃষ্টিকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার সকালে হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের দফতর ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেফতার করে। জামিলের রুমমেট এই হিশামের পারিবারিক বাড়িতে ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে বের করে আনলেও হিশাম বাড়ি ছাড়তে অস্বীকার করেন। প্রায় ২০ মিনিট ধরে নির্দেশ না মানায় সোয়াট টিম ডাকা হয়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি সাঁজোয়া যান সামনের উঠোনে দাঁড়িয়ে আছে এবং হিশাম কোমরে তোয়ালে বেঁধে দুই হাত তুলে ঘর থেকে বেরিয়ে আসছেন।
প্রাথমিকভাবে হিশামের বিরুদ্ধে ডমেস্টিক ভায়োলেন্স ব্যাটারি, মিথ্যা কারাবন্দি করা, সাক্ষ্য নষ্ট করা, মৃত্যুর তথ্য না জানানো এবং মরদেহ অবৈধভাবে সরানোর অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু ছবিটা রাতারাতি বদলে গেছে।
২৫ এপ্রিল ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে আপডেট দিয়ে জানানো হয়, স্টেট অ্যাটর্নির দফতরে উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে হিশাম আবুগারবিয়েহের বিরুদ্ধে এখন প্রথম ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অর্থাৎ কেবল জামিল নন, নাহিদার মৃত্যুর দায়েও তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে — যদিও নাহিদার লাশ এখনো পাওয়া যায়নি।
বৃষ্টির বড় ভাই জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে তদন্তকারীরা বাংলাদেশে পরিবারকে ফোন করে জানিয়েছেন যে তারা মনে করছেন নাহিদা আর বেঁচে নেই — কারণ জামিল ও হিশামের শেয়ার করা অ্যাপার্টমেন্টে “অস্বাভাবিক পরিমাণ রক্ত” পাওয়া গেছে। হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের দফতরের ডাইভ টিম হাওয়ার্ড ফ্রাংকল্যান্ড সেতুর আশপাশের জলরাশিতে নাহিদার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।
জামিলের মৃত্যুর কারণ ও ধরন নির্ধারণের জন্য ময়নাতদন্ত চলছে এবং এর ফলাফল শনিবার সকালে পাওয়ার কথা ছিল। এই রিপোর্ট হাতে আসলে কীভাবে জামিলকে হত্যা করা হয়েছে, তা স্পষ্ট হবে।
হিশাম আবুগারবিয়েহ জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। ফিলিস্তিনি পরিবার থেকে আসা অভিযুক্ত এ ঘাতক। তিনি ইউএসএফে ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ম্যানেজমেন্টে স্নাতক ডিগ্রি নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ঘটনার সময় তিনি আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন না। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মে ও সেপ্টেম্বরে তার বিরুদ্ধে ব্যাটারি ও বার্গলারির মতো একাধিক মামলা হয়েছিল।
তদন্তকারীরা বলছেন, তারা মনে করছেন হিশাম একাই এই কাজ করেছেন। “এই মুহূর্তে আমাদের কাছে কোনো ইঙ্গিত নেই যে সে অন্য কারো সাথে মিলে এটা করেছে,” বলেন চিফ ডেপুটি মোরার।
জামিলের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ সিএনএনকে বলেছেন, “এটা আমাদের জন্য ধ্বংসাত্মক। আমরা অসাড় হয়ে যাচ্ছি। যেকোনো কিছু সম্ভব হতে পারে। আমরা শুধু সত্যটা জানতে চাই।” জামিল এই গ্রীষ্মে পরিবারের সাথে দেখা করতে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন।
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর এলাকায়। তার বাবার নাম জহির উদ্দিন আকন ওরফে দিল মোহাম্মদ। জহির উদ্দিন দুই যুগের বেশি সময় ধরে রাজধানী ঢাকার মিরপুর ১১ নম্বরে পরিবার নিয়ে থাকেন। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছেন।
জহির উদ্দিন বলেছেন, ‘মেয়ের সাথে আমাদের রোজই কথা হতো। গত বৃহস্পতিবার আমার সর্বশেষ কথা হয়। তখন বৃষ্টি ওর ক্যাম্পাসে ডেক্সে ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করছিল। এর পর থেকে ফোন বন্ধ। পরে বাংলাদেশি অন্য শিক্ষার্থীরা যোগাযোগ করেও বৃষ্টির কোনো সন্ধান পায়নি।’
নিহত জামিল আহমেদ জামালপুর মাদারগঞ্জের কড়ইচড়া ইউনিয়নের মহিষবাথান এলাকার জহুরুল হকের ছেলে। কর্মসূত্রে জহুরুল হক দীর্ঘদিন ধরেই গাজীপুরের মাওনা এলাকায় বসবাস করতেন। সেখানেই জামিলের বেড়ে ওঠা ও পড়ালেখা। একই এলাকায় তিনি স্ত্রী লুৎফেন নেছাকে নিয়ে সংসার গড়ে তোলেন। যদিও পরিবারের সদস্যরা মাঝেমধ্যে গ্রামের বাড়ি মহিষবাথানে আসতেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডির শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও বৃষ্টি নিহত হওয়ার খবরে তাদের গ্রামের বাড়িসহ সর্বত্র স্বজনদের মধ্যেও মাতম শুরু হয়েছে।
১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর লিমনের মরদেহ পাওয়ার খবরে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির আঙিনা। প্রবাসে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া ২৭ বছর বয়সী এই তরুণের এমন পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না স্বজনেরা।
বৃষ্টির মৃত্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।যদিও তার লাশ উদ্ধার করতে পারেনি এখনো। নদিতে তল্লাশি অব্যাহত আছে।
এ পরিবারের অবস্থায় অনুমেয়। স্বজনদের কান্নায় ভারি হচ্ছে বাতাস। শান্তনা দেয়ার কীইবা আছে!বহু প্রশ্নের উত্তর খোঁজছেন তারা।
ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এ নিয়ে উভয়দিকে যোগাযোগ রাখছে।
সন্দেহভাজন ব্যক্তি হাশেম আবুদররহে ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। তিনি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।
হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুটি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এমন হত্যাকে ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার বলে।
কেন, কীভাবে দুইজন শিক্ষার্থীকে হাশেম হত্যা করেছে,তা পুলিশ এখনো উদ্ধার করতে পারেনি।প্রথমে সহযোগিতা করলেও হাশেম এখন জিজ্ঞাসাবাদে চুপ থাকছে।
এরমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে এ স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে তথ্য বা কোন সূত্র ছাড়াই অনেকে নানাকথা প্রচার করতে শুরু করেছেন।
শোকবিহ্বল পরিবার ও সমব্যথী লোকজনের প্রতি সম্মান রেখে সূত্রহীন কিছু প্রচার না করার জন্য।অনুরোধ জানানো হচ্ছে।