সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নওধার গ্রামের বৃষ্টি আক্তার বাদী হয়ে ধর্মপাশা থানায় লিখিত অভিযোগ করায় মাহবুব (৪৮) ও শিশু কাউছার মিয়া (১৭) নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে ধর্মপাশা থানা পুলিশ। উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভিন্নচিত্র।
আসামি পক্ষের লোকজন ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাকিব (২২) ও কাউছার মিয়া (১৭) দুজন মিলে মধ্যনগর আয়াতুল্লাহ সেতুর উপর ঘুরতে যায়। সন্ধ্যার আগ মুহুর্তে সেখান থেকে তারা বাড়ি ফেরার পথে তাদের গাড়ির তেল ফুরিয়ে যায়। এরপর তারা গাড়িটি সচল করার জন্য গাড়ির টেংকির মধ্যে রিজার্ভে থাকা তেল নামিয়ে গাড়িটিকে এদিক সেদিক কাত করছিলো। এ সময় তাদের পাশে থাকা ব্যাটারিচালিত একটি অটোতে থাকা লোকজন সাকিব ও কাউছারের গাড়ি কাত করার বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখে তারা দুজনকে ভুল বুঝে তাদের সাথে তর্কে জড়িয়ে যায় এবং একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতা হাতি হয়। এরপর সেখান থেকে উভয় পক্ষই সরে যায়। এরপর ওইদিন রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ১২টার দিকে অটোতে থাকা লোকজনদের কল পেয়ে তাদের আত্নীয় স্বজনরা সংবদ্ধভাবে উপজেলার সুনই আলতাবপুর সাকিব ও কাউছারদের বাড়িতে এসে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করে তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। শুধু তাই নয় আক্রমণ করীরা থানায় লিখিত অভিযোগ করে কাউছার ও সাকিবের চাচা মাহবুব কে পুলিশে ধরিয়ে দেয়।
আর অভিযোগের এজাহার সূত্রে জানা যায়, ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের নওধার গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে ও অভিযোগের বাদীনি বৃষ্টি আক্তার (২২) তার বড় বোন, ভগ্নিপতি ও পরিবারের অন্যান্য লোকজনের সাথে গত সোমবার (৭সেপ্টেম্বর) বিকাল বেলা একটি ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সায় চড়ে মধ্যনগর থানাধীন ব্রীজের পার্শ্বে বেড়াইতে যায়। সেইখানে বাদী অন্যান্য পর্যটকের সাথে একত্রে হাটা চলা ও ছবি তুলার সময় এজাহারনামীয় পলাতক আসামী সাকিব (২২) ও সংঘাতে জড়িত শিশু কাউছার মিয়া (১৭) সহ অজ্ঞাতনামা আসামী বাদীনি ও তাহার ছোট বোনদের দিকে তাকিয়ে খারাপ অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, ইঙ্গিতপূর্ণ ইশারা দেওয়া, শিস দেওয়া’সহ বিভিন্ন খারাপ আচরণ করে। তাদের সাথে থাকা বাদীনির ভগ্নিপতি বাধা দিলে সংঘাতে জড়িত শিশু কাউছার’সহ আসামীরা তাহাদেরকে ভয়ভীতি দেখাইয়া চলিয়া যায়। পরবর্তীতে একইদিন সন্ধ্যা অনুমান ৬টা ৩০মিনিটের সময় বাদী ও তার পরিবারের সদস্যগণ মধ্যনগর এলাকা হতে অটোরিক্সা গাড়ীযোগে ধর্মপাশা থানাধীন সুনই আলতাবপুর নামক এলাকার সড়কের স্পীড ব্রেকারের সামনে পৌছলে অটোরিক্সা চালক গাড়ী ধীর গতিতে চালানোর সময় বর্ণিত এজাহারনামীয় পলাতক আসামী সাকিব (২২) সহ গ্রেফাতরকৃত সংঘাতে জড়িত শিশু কাউছার মিয়া (১৭) সহ অজ্ঞাতনামা আসামী তাহাদেরকে দেখামাত্রই অশ্লীল ভঙ্গিতে দুর থেকে চুম্বনের শব্দ করিয়া পূনরায় যৌন উত্যক্ত শুরু করিলে বাদীর ভগ্নিপতি মোঃ ইয়াসিন মিয়া অটোরিক্সা গাড়ী হইতে নামিয়া তাদেরকে উক্তরূপ খারাপ আচরণ করার বিষয়ে পূনরায় বারণ করিলে তখন পলাতক আসামী সাকিব ও গ্রেফতারকৃত শিশু কাউছার (১৭) সহ অজ্ঞাতনামা আসামী মোটর সাইকেল থেকে নামিয়া বাদীর বাম হাত ধরিয়া টানা টানি করিয়া যৌনপীড়ন করে। তখন বাদীর ভগ্নিপতি তাহাদেরকে বাধা দিলে আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু’সহ আসামীরা ক্ষিপ্ত হইয়া ডাকা-ডাকি করিয়া ২নং থেকে ৫নং আসামী’সহ অপরাপর অজ্ঞাতনামা আসামী একত্র হইয়া একই উদ্দেশ্যে সাধনকল্পে বেআইনী জনতায় দলবদ্ধ হইয়া ৪নং আসামী মোশারফ হোসেন এর হুকুমে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র লোহার রড, চাইনিজ কুড়াল, বাশের লাঠি’সহ বাদীর অটোরিক্সার পথরোধ করে। অতঃপর ৪নং আসামীর হুকুমে উপস্থিত অপরাপর সকল আসামী বাদী ও তার সাথে লোকজনের উপর এলোপাতাড়ী আক্রমন করিয়া বাদী নিজে, বাদীর ভগ্নিপতি, বাদীর ছোট ভাইদেরকে এলোপাতাড়ীভাবে আঘাত করিয়া গুরুতর ও নীলাফুলা জখম করে। সংঘাতে জড়িত শিশু কাউছার’সহ অপরাপর অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামীরা তাদের হাতে থাকা রড ও লাঠি-সোটা দিয়া তাদের ভাড়াকৃত অটোরিক্সা চালক ৬নং সাক্ষীকে এলোপাতাড়ী মারধর করিয়া নীলা ফুলা জখম করে। জখমীদের শুর চিৎকারে তাহাদের ভাড়াকৃত অটোরিক্সা চালকের পরিচিত রাস্তায় চলাচলকারী অটোরিক্সা চালক ও যাত্রীরা আগাইয়া আসিলে আসামীরা তাদেরকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়া চলিয়া যায়। অতঃপর রাস্তায় চলাচলকারী অটোরিক্সা চালক ও যাত্রীরা তাদেরকে উদ্ধার করিয়া ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করে। জখমীরা ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হইতে চিকিৎসা গ্রহণ করে।
ধর্মপাশা থানার ওসি তদন্ত ইমাম হোসেন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার দিন রাত অনুমান আড়াইটার দিকে আসামী মাহাবুব (৪৮) এবং কাউছার মিয়া (১৭) নামের দুইজনকে তাদের বসত বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পরদিন মঙ্গলবার (৮সেপ্টেম্বর) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পেরণ করা হয়েছে।
