নবীগঞ্জের ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের লামনীরপাড় গ্রামে প্রবাসী পুত্রের স্ত্রী তামান্না আক্তারের পরকীয়ার বলি হলেন শাশুড়ী ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৫৩)। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ পুত্রবধূকে আটক করলে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার স্বীকারোক্তি মুলক জবান বন্দি দেন বধু তামান্না।
নিহত বৃদ্ধা ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী ওই গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। তার ছেলে রফিকুল ইসলাম চৌধুরী দুবাই প্রবাসী। বাড়িতে বউ-শাশুড়ী একা থাকতেন।
জানা যায়, উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের লামনীরপাড় গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৫৩) নামে ওই বৃদ্ধা নারীর হাত-পা বাঁধা ও মুখে কস্টিপ লাগানো অবস্থায় সোমবার সকালে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পুলিশ মৃতের সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরন করেন। এদিকে বৃদ্ধা ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরীর নির্মম হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে নিহতের পুত্রবধু তামান্না আক্তার (২২) কে আটক করে পুলিশ। এক পর্যায়ে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তামান্না আক্তার স্বীকারোক্তিমুলক জবান বন্দি দেন। সে জানায় সুনামগঞ্জের একটি ছেলের সাথে তার পরিচয় ঘটে। এক পর্যায়ে ওই ছেলের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে গৃহবধূ। রবিবার দিবাগত রাতে পরকীয়া প্রেমিক আর দুটি ছেলেসহ তামান্না আক্তারের সাথে দেখা করতে আসে। কিন্তু পরকীয়া প্রেমিক তামান্না আক্তারকে সে জানায়, তার কাছে রক্ষিত স্বর্নালংকার ও নগদ টাকা দিয়ে দিতে। পরে তাকে নিয়ে যাবে। তখন তামান্নার কাছে রুক্ষিত ৬ ভরি স্বর্ন, তারা শাশুড়ির আরও ৫ ভরি স্বর্ন আলমেরার তালা ভেঙ্গে প্রদান করে, এসময় ফেরদৌসীর গলার চেইন নিতে গেলে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়, তখন তিনি চিৎকার করলে পুত্র বধু ও পরকীয়া প্রেমিক সহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন মিলে ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরীর হাত,পা বেঁধে এবং মুখে কস্টিপ লাগিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। এ ব্যাপারে নিহতের ভাই ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে পুত্রবধু তামান্না আক্তার, তার পরকীয়া প্রেমিকসহ ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোনায়েম মিয়া জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। নিহতের ছেলের বউ আটক করা হয়েছে। সে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তি মুলক জবান বন্দি প্রদান করেছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।
