- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

প্রাচীন স্থাপত্য ও কল্পকাহিনি ঘেরা গায়েবি মসজিদ

প্রাচীন স্থাপত্য ও কল্পকাহিনির মিশেলে ভরা জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের চিকাজানী গায়েবি মসজিদ। জঙ্গল পরিষ্কার করতে গিয়ে এই মসজিদের সন্ধান পান স্থানীয়রা। নির্মাণকাল সম্পর্কে জানা না গেলেও স্থাপত্যশৈলী দেখে মসজিদটির বয়স প্রায় ৭০০-৮০০ বছর বলে ধারণা করা হয়।

১ শতাংশের কম জমি নিয়ে মসজিদটির দেয়ালজুড়ে প্রাচীন নকশা ও গম্বুজে রয়েছে সময়ের ছাপ। দুই পাশে দুটি জানালা, সামনে ছোট্ট দরজা-সরল গড়নে গভীর সৌন্দর্য।

এই মসজিদ ঘিরে রয়েছে নানা কল্পকাহিনি। জনশ্রুতি আছে, গায়েবি মসজিদের আশপাশে দুটি দাড়িওয়ালা সাপ ছিল। স্থানীয়রাও মাঝেমধ্যে দেখেছেন। এই সাপ দুটি কারও কোনো ক্ষতি করত না। একটি মেরে ফেলার পর, অন্যটিকে এখন আর দেখা যায় না।

স্থানীয়রা জানান, এই জায়গা থেকেই দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় ইসলামের প্রচার শুরু হয়। প্রথম দিকে ইমামসহ মাত্র ২১ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতেন গায়েবি মসজিদে। সময়ের সঙ্গে বেড়েছে কাতার, বড় হয়েছে মসজিদ। পুরোনো মসজিদটি ঠিক রেখে সামনে নতুন তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে এই মসজিদ দেখতে আসেন অনেকে। মনের আশা পূরণের জন্য করেন মানত ও দোয়া। প্রতি মাসে এই মসজিদের দান বাক্সে ১ লাখ থেকে ২ লাখ টাকা পাওয়া যায়। সেই অর্থ দিয়েই মসজিদ পরিচালিত হয়।

স্থানীয় আব্বাস আলী বলেন, আমার দাদা ও তার আগের প্রজন্মের মানুষদের কাছে জানতে চেয়েছি এই মসজিদ কবে নির্মিত হয়েছে, সে বিষয়ে কেউই সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি। তবে ধারণা করা হয়, মসজিদটির বয়স আনুমানিক ৭০০-৮০০ বছরের মতো হবে। তিনি আরও বলেন, মুরুব্বিদের কাছ থেকে শুনেছি, একসময় এই জায়গাটি উলু মাটি ও ঘন জঙ্গলে ঢাকা ছিল। জঙ্গল পরিষ্কার করার সময় হঠাৎ করেই একটি মসজিদের অস্তিত্ব চোখে পড়ে। তখন থেকেই এর নামকরণ হয় গায়েবি মসজিদ।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মসজিদের ইমাম মো. মূসাকে পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘদিনের মুয়াজ্জিন হাফেজ নুরুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, আমাদের দাদা-নানাদের কাছে এই মসজিদ নিয়ে এসব কল্পকাহিনি শুনেছি। তারাও তাদের দাদা-নানাদের কাছে নাকি ওইসব কথাই শুনেছেন। নুরুল ইসলাম বলেন, শুধু চুন-সুরকি দিয়ে মূল মসজিদ প্রতি বছর শুধু রং করা হয়। মসজিদের কোনো অংশেই দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা এখনো ঘটেনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন