প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত মোট ১৪ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তি লাভ করেছে। এর মধ্যে ২ জন ট্যালেন্টপুল এবং ১২ জন সাধারণ ক্যাটাগরিতে বৃত্তি অর্জন করেছে। শিক্ষার্থীদের এ কৃতিত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে আনন্দের আবহ বিরাজ করছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মইনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেছে গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী প্রকৃতি তালুকদার এবং বিছরাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী আদ্রিতা দেব।
সাধারণ ক্যাটাগরিতে বৃত্তি অর্জন করেছে সিংহগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাবিবা তাসনিম দিয়া, বুশরা রহমান, তনুশ্রী দে, লামিসা তাবাচ্ছুম, পুষ্পিতা দে পর্ণা, সম্পূর্ণা দে সিমি ও রিম্পা রানী দাস; বিছরাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তুলসী দেব ও সমাদ্রিতা দেব; ভাগাডহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাফসা বেগম নাভা; ষাটমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃণা দত্ত এবং গাজিটেকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সানজিদা ইয়াছমীন তানহা।
বৃত্তিপ্রাপ্ত এসব শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে নিজ নিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এ কৃতিত্ব অর্জন করে। বর্তমানে তারা বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। তাদের এ সাফল্য বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মইনুল ইসলাম ষাটমাকন্ঠকে বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ- উভয় ক্যাটাগরিতেই শিক্ষার্থীদের বৃত্তি অর্জন বিদ্যালয়ের জন্য একটি বড় প্রাপ্তি। এই অর্জনের পেছনে শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়, অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিরলস পরিশ্রম রয়েছে। আমি বৃত্তিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষার্থীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।”
তিনি আরও বলেন, “বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের ওপর সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের মেধা ও দক্ষতা বিকাশে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। আমরা আশা করি, এই সাফল্য আগামী দিনেও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আরও ভালো ফল অর্জনে উৎসাহিত করবে।”
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের এই অর্জন শুধু বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্যই নয়, উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রেও একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
