প্রবাস জীবনের ইতি টেনে পরিবারের কাছে ফেরা হলো না কবিরের

সাত বছরের প্রবাস জীবনের ইতি টেনে স্ত্রী ও একমাত্র ছেলের কাছে ফিরতে আর মাত্র ১৫ দিনের অপেক্ষা ছিল কবির হোসেনের। সব প্রস্তুতিও শেষ করেছিলেন তিনি। কিন্তু নির্মম ভাগ্যের পরিহাসে প্রিয়জনদের কাছে আর ফেরা হলো না তার। মালয়েশিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হয়েছেন রেমিট্যান্সযোদ্ধা কবির হোসেন।

নিহত কবির হোসেন (৪৫) নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কয়রাগ্রামের বাসিন্দা। সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে সাত বছর আগে তিনি মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মালয়েশিয়ার চামান্ডা উতিরাম এলাকায় ‘কে সেল’ নামের একটি কারখানায় নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন কবির। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে কারখানার দ্বিতীয় গেটে দায়িত্ব পালনকালে দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি নিহত হন। রাত প্রায় ৩টার দিকে তার মৃত্যুর সংবাদ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।

নিহত কবিরের স্ত্রী আমেনা বেগম বিলাপ করে বলেন, আমার স্বামীর স্বপ্ন ছিল দেশে ফিরে পরিবার নিয়ে শান্তিতে থাকবে। রাত ৯টার দিকে ফোন করেছিলেন। আমার বুকে ব্যথা থাকায় বেশিক্ষণ কথা বলতে পারিনি। তিনি বলেছিলেন ব্যথা কমলে ফোন দিতে। পরে অনেকবার ফোন করেছি, আর ধরেননি। শেষ সময়ে মনভরে কথা বলতে না পারার আক্ষেপ আমাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। যারা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।

বাবার ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন কবিরের একমাত্র ছেলে সোহান হোসেন। বাবার মৃত্যুর খবরে তার সব আশা এখন হতাশায় রূপ নিয়েছে।

সোহান বলেন, বাবা বলেছিলেন সামনের মাসেই দেশে আসবেন। আমরা অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল। সামনের গেটের দায়িত্বে থাকা কেউ মারা যায়নি, অথচ দ্বিতীয় গেটে থাকা আমার বাবাকে হত্যা করা হলো। আমি এই হত্যার বিচার চাই। সরকারের কাছে অনুরোধ, বাবার মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হোক।

উল্লেখ্য, দুই বছর আগে একবার ছুটিতে দেশে এসেছিলেন কবির হোসেন। ছুটি শেষে জীবিকার তাগিদে তিনি আবার মালয়েশিয়ায় ফিরে যান। আগামী মাসেই তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু এবারের ফেরা হলো কফিনে মোড়ানো দেহ হয়ে।

কবির হোসেনের মৃত্যুর খবরে তার গ্রামের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় জমেছে। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মরদেহ দেশে আনা এবং প্রয়োজনীয় সব বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন পরিবারের পাশে থাকবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন