সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের মাটিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্লীপার নির্মাণ না করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগসহ নানান অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক হাসান উদ্দিনের বিরুদ্ধে। ওইসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলার মাটিকাটা গ্রামবাসী পক্ষে তিন জনের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ সম্প্রতি সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কাছে দেয়া হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া আনুমানিক প্রায় ৮/৯ মাস আগে বন বিভাগ বা উপজেলা শিক্ষা অফিসের কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের ৪/৫টি গাছ কেটে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন প্রধান শিক্ষক। বিগত ২০২২-২৩ অর্থবছরে (প্রাক্কলন জানুয়ারী-জুন/২০২৩) বিদ্যালয়ের অসহায় ১০জন শিক্ষার্থীদের পোশাক তৈরির জন্য বরাদ্দকৃত স্লিপ ফান্ডের ৯,৫০০ টাকা, জানুয়ারী-জুন ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ থেকে স্লীপার নির্মাণ না করে আত্মসাত করেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের দরিদ্র ১০০জন শিক্ষার্থীদের খাতা কলমের জন্য বরাদ্দকৃত স্লিপ ফান্ডের ১০ হাজার টাকা, ওয়াশব্লক মেরামতের জন্য বরাদ্ধকৃত ২০ হাজার টাকা ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত সুপরিকল্পিত ২টি টয়লেট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়াই সম্পূর্ণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা সরকারি সম্পদের চরম অপচয় করা হয়েছে।
অপরদিকে, করোনার সময় দেয়া সরকার প্রদত্ত ওয়াশরুম পরিষ্কার সামগ্রী যথাযথ ব্যবহার না করে তালাবদ্ধ করে রাখেন প্রধান শিক্ষক। ২০২৪ সালে পরিষ্কার সামগ্রীর মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক পরিষ্কারের কাজে মেয়াদোত্তীর্ণ ফিনাইল, ফিক্সল, লিজল ও ফিনিশ ব্যবহার করা হচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে ওয়াশব্লক জীবাণুমুক্ত হওয়া তো দূরের কথা, উল্টো সেখান থেকে এক ধরণের তীব্র ও বিষাক্ত ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়াচ্ছে। এর ফলে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগে ভুগছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সহকারী শিক্ষকগনও এসব অনিয়ম করলেও বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষককে কেউই বলার মত কেউই নয়।
এলাকাবাসীর পক্ষে অভিযোগ কারী মাদু মিয়াসহ অন্যান্যরা জানান,আমরা বিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্বার্থে ও সরকারী টাকা সঠিক ভাবে ব্যয় করে বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানসম্মত পরিবেশ তৈরি করতে চাই। তার জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আশা করছি দায়িত্বশীল কতৃপক্ষ এই বিষয় যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন।
সকল অভিযোগের বিষয়ে মাটিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসান উদ্দিন জানান, সরকারি বরাদ্দের স্লীপারের টাকা তিনি বিদ্যালয়ের দেয়াল নির্মাণ কাজে ব্যয় করবেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ উদেশ্যপ্রনোদিত।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহন লাল দাস জানিয়েছেন, মাটিকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগের বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
