প্রেমের ফাঁদে পড়ে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী র‌্যাবের অভিযানে উদ্ধার

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানাধীন একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের প্রায় এক মাস পর উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৯। এ ঘটনায় অপহরণের অভিযোগে ওই ছাত্রীর গৃহশিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। র‌্যাবের দাবি, প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে গৃহশিক্ষক ছাত্রীকে অপহরণ করে অন্য জেলায় নিয়ে গিয়ে আটকে রেখেছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর থানার চর ইসলামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত গৃহশিক্ষক অন্তর খাঁন (২৫)-কে গ্রেফতার করা হয়।

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে র‌্যাব-৯ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করে। পরে গ্রেফতারকৃত অন্তর খাঁনকে মোগলাবাজার থানায় হস্তান্তর করা হলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেফতারকৃত অন্তর খাঁন হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার এড়ালিয়া পাড়ার বাসিন্দা এবং আজাদ খাঁনের ছেলে।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া কিশোরী মোগলাবাজার এলাকার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। গত ২১ মে সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সম্ভাব্য সব জায়গায় অনুসন্ধান করেও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে মোগলাবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, মেয়েটির গৃহশিক্ষক অন্তর খাঁন দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে তিনি স্থানীয় কলাবাগান বাজার এলাকা থেকে কৌশলে ওই ছাত্রীকে নিয়ে যান এবং অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পর স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে মোগলাবাজার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-৯ গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযানের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

র‌্যাব জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত ছাত্রীকে প্রয়োজনীয় আইনগত ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরা ও অনলাইন যোগাযোগের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের প্রলোভন, প্রতারণা কিংবা অপহরণের মতো অপরাধ থেকে সুরক্ষিত রাখতে পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন