
আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং উপজেলাবাসীর স্বপ্নের একমাত্র রাস্তা শরিফ উদ্দিন সড়কে পুনঃ সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় দুই উপজেলার জনসাধারণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। কাজ শুরুর কিছুদিন পরেই এই স্বস্তির মাঝেই দেখা দিয়েছে কিছুটা অস্বস্তি ও সংশয়ের।
গত এক থেকে দেড় মাসে প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কাজের গতি অনুযায়ী পুরো কাজই করা হচ্ছে নিম্নমানের।
সংস্কার কাজে পুরাতন কার্পেটের ওপর নতুন কার্পেটের প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে। যদিও এই কাজের তিন বছরের মেয়াদ ঠিকাদারের থাকছে। কাজে অনিয়ম দূর্নীতি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা ধারণা করছেন, যদি বর্ষা মৌসুমের আগেই সংস্কার কাজ সম্পন্ন না হয়, তবে কাজের ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটতে পারে। যেমন করে কাজ হচ্ছে সড়কের টেকসই মান নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আষাঢ় – শ্রাবণ মাসে বৃষ্টি সিলেট বিভাগে বেশি হয়। বর্ষাকালে বৃষ্টি শুরু হলে নতুন কার্পেটের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই সড়কটি একটি মেগা প্রকল্পের আওতাভুক্ত। যার বরাদ্দ প্রায় ৩২ কোটি টাকা,সরকারি ভ্যাট-ট্যাক্স বাদ দিয়ে মূল হিসাবে ২৪ কোটি টাকা কাজ হওয়ার কথা।বর্তমানে এর সংস্কার কাজ টিবিএল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে।কয়েকমাস আগেও শরিফ উদ্দিন সড়কের অবস্থা এতটাই বেহাল ছিলো , সেটিকে আর সড়ক বলা যেত না। দূর্ঘটনার আর বিপদে ছিল দুর্ভোগ।
প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি ২০১৭ সালে ১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) নির্মাণ করে। কিন্তু দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি ধীরে ধীরে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়। খানাখন্দ, ভাঙা কার্পেট ও জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছিল এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে।
এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং সড়কের সংস্কার কাজের সাইট ইনচার্জ মোঃ ইমরানের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগে কাজ শুরু করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত যান চলাচলের সুবিধার জন্য প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকায় কার্পেটিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রাস্তার যেসব অংশে পুরাতন কার্পেট তুলনামূলকভাবে ভালো আছে, সেসব জায়গায় স্ক্র্যাপিং ও ওয়্যারিং কার্পেট করা হবে।
তিনি আরও জানান, ইস্টিমেট অনুযায়ী সড়কে ৪০ এমএম পুরু কার্পেট দেওয়া হচ্ছে এবং কিছু কিছু জায়গায় প্রয়োজন অনুযায়ী ৫০ এমএম কার্পেট বসানো হবে। এই সংস্কার কাজের তিন বছরের মেয়াদ ঠিকাদারের ওপর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে সড়কে কোনো ধরনের ক্ষতি বা মেরামতের প্রয়োজন হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজ দায়িত্বে তা সম্পন্ন করবে।