বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এক ভয়াবহ ও বীভৎস চিত্র ফুটে উঠেছে ১৫ বছর বয়সী কিশোর সাইফুল ইসলামের জীবনের ওপর দিয়ে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেবল নিজের ঘরবাড়িই হারায়নি সে, বরং অপহরণ ও অমানুষিক শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে এখন সে মৃত্যুভয়ে দেশান্তরী। সাইফুলের বাবা আমান উল্লাহ আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেতা হওয়ার কারণে স্থানীয় বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের শত্রুতা ছিল, যা শেষ পর্যন্ত এক কিশোরের জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখে, যখন একদল সশস্ত্র লোক তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। সেই আগুনে সাইফুলের পরিবার সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। বাড়িঘর হারানোর পর জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বেড়ানোর সময় সাইফুল প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর হাতে অপহৃত হয়। অপহরণের পর তার ওপর চালানো হয় মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বর নির্যাতন। হামলাকারীরা তার শরীরের বিভিন্ন অংশ, বিশেষ করে পা, উরু এবং স্পর্শকাতর অঙ্গে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়, যার ফলে তার শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নির্যাতনের সময় তার বাম কানে প্রচণ্ড আঘাত করা হয়, যার ফলে সে বর্তমানে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেছে এবং তীব্র শ্বাসকষ্টসহ থাইরয়েডজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছে।
নির্যাতনকারীদের হাত থেকে কোনোমতে পালিয়ে বাঁচলেও সাইফুল এখন সম্পূর্ণ একা ও পরিচয়হীন। হামলার পর থেকে সে তার বাবা-মা বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের সন্ধান পায়নি এবং তার আশঙ্কা যে তারা হয়তো আর বেঁচে নেই। বাংলাদেশে থাকাকালীন নির্যাতনকারীরা তাকে হত্যার জন্য হন্যে হয়ে খোঁজার ফলে জীবন বাঁচাতে সে বাবার এক শুভাকাঙ্ক্ষীর সহায়তায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত এই কিশোর শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি চরম মানসিক ট্রমার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে সাইফুল ইসলামের এই অসহায়ত্ব এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
