- Dainiksylhet.com - https://dainiksylhet.com -

রাত ৮টার পর দোকান খোলা রাখা যাবে না

বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে সিলেটসহ সারাদেশে দোকানপাট, শপিং মল ও মার্কেট রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

সরকারের নতুন এ নির্দেশনার ফলে সন্ধ্যার পর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো এ বিধিনিষেধের আওতায় থাকবে না। ফলে খাবারের দোকান, হাসপাতাল, ওষুধের দোকানসহ সংশ্লিষ্ট জরুরি সেবাখাতের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাভাবিক নিয়মে খোলা রাখা যাবে।

বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা কমাতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে দোকানপাট, মার্কেট, শপিং মলসহ বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত ও প্রদর্শনমূলক আলোকসজ্জা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সময়ে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নতুন নির্দেশনা কার্যকর হলে রাত ৮টার পর সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট, মার্কেট ও শপিং মলের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। তবে জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এ সময়সীমার বাইরে থাকবে।

শুধু দোকানপাট বন্ধের সময় নির্ধারণই নয়, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে বিজ্ঞাপন ও আলোকসজ্জার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ভবন, মার্কেট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জাও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়টি তদারক করার কথা বলা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৈনন্দিন কার্যক্রম শেষ করতে হবে। বিশেষ করে বড় মার্কেট, শপিং মল ও ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকার ব্যবসায়ীদের জন্য এটি নতুন সময়সূচির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে খাবারের দোকান, হাসপাতাল, ফার্মেসি ও অন্যান্য জরুরি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান চালু রাখার সুযোগ থাকায় সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের এ উদ্যোগ সফল করতে শুধু সরকারি নির্দেশনা নয়, ব্যবসায়ী, প্রতিষ্ঠান মালিক ও সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অপ্রয়োজনীয় আলো বন্ধ রাখা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় চাপ কমানোর পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন