তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ১১ রানের রোমাঞ্চকর জয় পেয়ে সিরিজ ২–১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের ক্যারিয়ারের প্রথম শতক বাংলাদেশের বড় সংগ্রহ গড়ার ভিত্তি তৈরি করে দেয়। পরে পেসারদের দুর্দান্ত বোলিং পাকিস্তানের রান তাড়া ভেঙে দেয়। পাকিস্তানের হয়ে সালমান আগার শতক সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হেসেছে বাংলাদেশ।
টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের দুই ওপেনার শক্ত ভিত্তি গড়ে দেন। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। দ্বিতীয় ওভারেই হারিস রউফকে একটি চার ও একটি ছক্কা মারেন তিনি। পাওয়ারপ্লেতে বাউন্ডারি এলেও পাকিস্তানি বোলাররা কোনো রকমে রান নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে।
১১তম ও ১২তম ওভারে যথাক্রমে ১১ ও ১৫ রান তুলে বাংলাদেশ কিছুটা গতি বাড়ালেও পরে স্পিনারদের বিপক্ষে মূলত এক-দুই রান নিয়েই এগোতে থাকে দলটি।
১৬তম ওভারে মাত্র ৪৭ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন তানজিদ। এরপর দুই ওভারে একটি ছক্কা ও একটি চার মেরে বড় ইনিংসের ইঙ্গিত দেন তিনি। ১৯তম ওভারে শহীন শাহ আফ্রিদির বলে সাইফ হাসান আউট হলে ১০৫ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে। এরপর তানজিদ ও নাজমুল হোসেন শান্তর মধ্যে গড়ে ওঠে ৫৩ রানের আরেকটি জুটি।
৩০ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ছিল ২ উইকেটে ১৬০। ৩৩তম ওভারে লং অফের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে একদিনের ক্রিকেটে নিজের প্রথম শতক পূর্ণ করেন তানজিদ।
তখন মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ সহজেই তিনশো রানের বেশি করবে। কিন্তু শেষ দিকে গতি কমে যায়। পুরোনো বল কিছুটা গ্রিপ করায় পাকিস্তানের স্পিনাররা রান তোলা কঠিন করে তোলে। ৩৭তম ওভারে আবরার আহমেদের বলে আউট হন তানজিদ।
লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় এরপর রান বাড়ানোর চেষ্টা করলেও বাউন্ডারি খুব একটা আসছিল না। তবু দ্রুত দৌড়ে এক-দুই রান নিয়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন তারা। ৪৭তম ওভারে লিটন আউট হলে ৬৮ রানের জুটি ভাঙে এবং পরের বলেই রিশাদ হোসেনও ফিরে যান। শেষদিকে হৃদয় দুটি গুরুত্বপূর্ণ চার মেরে আফিফ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে দলকে ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৯০ রানে পৌঁছে দেন। হৃদয় অপরাজিত থাকেন ৪৮ রানে।
২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। প্রথম তিন ওভারের মধ্যেই তিনটি উইকেট হারায় তারা। ১৭ রানে ৩ উইকেট পড়ে গেলে চাপে পড়ে দলটি।
অভিষিক্ত গাজি ঘোরি অবশ্য নির্ভীক ব্যাটিং করেন। একটি ছক্কা ও একটি চার মেরে শুরু করেন তিনি। আবদুল সামাদও কয়েকটি বাউন্ডারি মারেন। তাদের ৫০ রানের জুটি কিছুটা স্বস্তি দেয় পাকিস্তানকে।
তবে ১৪তম ওভারে নাহিদ রানার বলে বোল্ড হন ঘোরি। তিন ওভার পর মোস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হন সামাদ।
৮২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান যখন বিপদে, তখন হাল ধরেন সালমান আগা। সাদ মাসুদের সঙ্গে ৭৯ রানের জুটি গড়েন তিনি। এরপর ফাহিম আশরাফের সঙ্গে আরও ৪৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি হয়।
৩৬তম ওভারে ছক্কা মেরে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন সালমান। পরে ৪৪তম ওভারে আরেকটি ছক্কা মেরে শতক পূর্ণ করেন তিনি, যা তার একদিনের ক্রিকেটে তৃতীয় শতক।
শেষ পাঁচ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ৪৫ রান। ম্যাচ তখনও হাড্ডাহাড্ডি। ৪৮তম ওভারে তাসকিন আহমেদের ধীরগতির বলে ক্যাচ দিয়ে আউট হন সালমান।
শেষ দুই ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ২৮ রান। শহীন শাহ আফ্রিদি মুস্তাফিজুর রহমানকে টানা দুটি ছক্কা মারেন। ওই ওভারেই হাঁটুতে আঘাত পেয়ে মাটিতে পড়ে যান মোস্তাফিজুর। কিন্তু ব্যথা নিয়েও শেষ বলে একটি উইকেট নিয়ে দলকে স্বস্তি দেন তিনি।
শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৪ রান। রিশাদ হোসেন বল করতে এসে দ্বিতীয় বলে শহীনের একটি উঁচু শট ধরতে পারেননি, ফলে নাটকীয়তা আরও বাড়ে।
শেষ দুই বলে পাকিস্তানের দরকার ছিল ১২ রান। শহীন সুইপ খেলতে গিয়ে বল মিস করেন। আম্পায়ার প্রথমে ওয়াইড দিলেও বাংলাদেশ আপিল করে। পরে প্রযুক্তি ব্যবহারে দেখা যায় ব্যাটে স্পর্শ ছিল, ফলে সিদ্ধান্ত বদলাতে হয় আম্পায়ারকে।
শেষ বলে শহীন স্টাম্পড হলে ম্যাচের নাটকীয় সমাপ্তি ঘটে। ১১ রানের জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত ফলাফল:
বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৯০ (তানজিদ হাসান তামিম ১০৭, তাওহীদ হৃদয় অপরাজিত ৪৮; হারিস রউফ ৩–৫২)।
পাকিস্তান ৫০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ২৭৯ (সালমান আগা ১০৬; তাসকিন আহমেদ ৪–৪৯, মোস্তাফিজুর রহমান ৩–৫৪)।
বাংলাদেশ ১১ রানে জয়ী।