রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের মুহূর্তটি হয়ে ওঠে দিনটির সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সময়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর শরীরের শক্তি পুনরুদ্ধার করা যেমন জরুরি, তেমনি হজমের ভারসাম্য বজায় রাখা ও শরীরকে সুস্থ রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা চর্বিযুক্ত খাবারের পরিবর্তে পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য বেছে নিলে শরীর ভালো থাকে এবং ক্লান্তি দ্রুত দূর হয়।
পুষ্টিবিদদের মতে, ইফতারের মেনুতে কিছু নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যকর খাবার রাখলে শরীর সহজে শক্তি ফিরে পায় এবং পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে।
চলুন, জেনে নিই সেগুলো কি কি।
খেজুর
ইফতার শুরু করার জন্য খেজুর অন্যতম সেরা খাবার। এতে রয়েছে প্রাকৃতিক চিনি, ফাইবার ও ভিটামিন, যা দ্রুত শক্তি জোগায় এবং হজমের সমস্যাও কমাতে সাহায্য করে।
কলার কম্পোট
রমজানে জনপ্রিয় একটি মিষ্টান্ন হলো কলার কম্পোট। এতে কার্বোহাইড্রেট ও পটাশিয়াম থাকে। তবে স্বাস্থ্যকর রাখতে এতে চিনি ও নারকেলের দুধ কম ব্যবহার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কম চর্বিযুক্ত নারকেলের দুধ বা বাদামের দুধ ব্যবহার করলে এটি আরো পুষ্টিকর হয়।
মিষ্টি ফল
আপেল, নাশপাতি, কলা, তরমুজ ও বাঙ্গির মতো ফল ইফতারের জন্য ভালো পছন্দ। এসব ফলে থাকা প্রাকৃতিক চিনি দ্রুত শক্তি জোগায়, আর পানি ও ফাইবার শরীরকে হাইড্রেট রাখে ও হজমে সহায়তা করে।
সবজির সালাদ
ভাজাপোড়ার পরিবর্তে সবজির সালাদ ইফতারে স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে। এতে ক্যালরি কম হলেও ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি থাকে। সালাদে গ্রিল করা মুরগির মাংস বা টোফু (সয়া পনির) যোগ করলে পুষ্টিগুণ আরো বাড়ে।
লাল চাল
লাল চাল জটিল কার্বোহাইড্রেটের ভালো উৎস এবং সাদা চালের তুলনায় বেশি পুষ্টিকর। এতে ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম ও ফলিক অ্যাসিড থাকে, যা হজমের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে।
ওটমিল
উচ্চ ফাইবারসমৃদ্ধ ওটমিল কোলেস্টেরল কমাতে এবং হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক। ফল বা সামান্য মধুর সঙ্গে এটি খাওয়া যেতে পারে।
মুরগির স্যুপ
হালকা ও সহজে হজমযোগ্য হওয়ায় মুরগির স্যুপ ইফতারের জন্য ভালো খাবার। এটি শরীরকে হাইড্রেট করে এবং সারাদিনের রোজার পর ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।
চর্বিযুক্ত মাছ
স্যামন, সার্ডিন ও ম্যাকারেলের মতো মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ। এগুলো হৃদ্স্বাস্থ্য ও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী এবং শরীরে প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।
চর্বিহীন মাংস
চর্বিহীন লাল মাংসে প্রোটিন ও আয়রন বেশি থাকে, যা শরীরের শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক। তবে ভাজার পরিবর্তে গ্রিল বা বেক করে খাওয়া ভালো।
দই
দই প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও প্রোবায়োটিকে সমৃদ্ধ। এটি হজমে সহায়তা করে, হাড় মজবুত রাখে এবং রোজার পর শক্তি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে।
গ্রিন টি
ইফতারের পানীয় হিসেবে গ্রিন টি একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদ্স্বাস্থ্য উন্নত করতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। সূত্র : প্রোডিয়া
