সাগরের নীল জলের গভীরে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের পুরোনো এক ডুবন্ত বন্দরনগরী। সম্প্রতি সেখানে অনুসন্ধান চালিয়ে চমকপ্রদ সব নিদর্শন খুঁজে পেয়েছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। পানির ১২ মিটার নিচে মিলেছে পশ্চিম এশিয়ার প্রাচীন মৃৎপাত্র। পাওয়া গেছে বিশেষ ধরনের ‘টর্পেডো’ বয়ামের টুকরো। এই আবিষ্কার প্রাচীনকালের দূরপাল্লার সমুদ্র বাণিজ্যের এক নতুন প্রমাণ হাজির করেছে।
ভারতের তামিলনাড়ুর পুম্পুহার উপকূল থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরের তলদেশে এই অনুসন্ধান চালানো হয়। জায়গাটি প্রাচীন চোল সাম্রাজ্যের বিখ্যাত বন্দর ‘কাবেরী পুম্পাট্টিনাম’ নামে পরিচিত। এর একটি অংশ এখন সাগরে তলিয়ে গেছে। গবেষকরা সেখানে ৬০-৬৫ সেন্টিমিটার ব্যাসের কুয়ো বা রিং ওয়েল এবং বিভিন্ন স্থাপনার কাঠামো পেয়েছেন। বিশেষজ্ঞ কে. রাজন জানান, এসব মৃৎপাত্র প্রমাণ করে সে যুগে মহাসাগরীয় বাণিজ্য প্রচলিত ছিল।
তামিলনাড়ুর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ও ইন্ডিয়ান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি যৌথভাবে এই কাজ করছে। তাদের লক্ষ্য হলো পুরোনো বন্দরটির মানচিত্র তৈরি করা। পাশাপাশি জাহাজডুবির খোঁজ এবং সাগরের পানির স্তরের পরিবর্তন জানাও তাদের উদ্দেশ্য। এখন পর্যন্ত মাত্র ১০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নিদর্শনগুলোর ছবি ইতালিসহ বিশ্বের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়েছে। আগের এক খননে এই এলাকার বয়স খ্রিষ্টপূর্ব ৩১৬ অব্দের কাছাকাছি বলে জানা গিয়েছিল।
এই আবিষ্কার পুরোনো তামিল সাহিত্যের বর্ণনাগুলোকে আরও সত্য প্রমাণ করে। প্রাচীন সাহিত্যে এই বন্দরে নানা ভাষার মানুষের বসবাস এবং ‘যবন’ বা বিদেশি বণিকদের উপস্থিতির কথা বলা আছে। এছাড়াও কেরালার পট্টনম, রামনাথপুরমের আলাগানকুলাম এবং পুদুচেরির আরিকামেডুর মতো এলাকাগুলোতেও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে এমন বাণিজ্যের প্রমাণ মিলেছে। সাগরের নিচে এই জনপদ ঠিক কতটা ছড়িয়ে ছিল, তা জানতে বর্তমান অনুসন্ধানটি দারুণ সাহায্য করবে।